পাগলা মসজিদের দানবাক্সে ২০৩০ বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের প্রার্থনা
পাগলা মসজিদে বিশ্বকাপ প্রার্থনার চিঠি

কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্সে এবার ৪৩ বস্তা টাকার পাশাপাশি পাওয়া গেছে প্রায় এক বস্তা চিঠি। এসব চিঠির মধ্যে একটি চিঠিতে ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ কামনা করে আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করা হয়েছে। আজ শনিবার দানবাক্স খোলার সময় এসব চিঠি পাওয়া যায়।

চিঠির বর্ণনা

উদ্ধার হওয়া একটি চিঠিতে লেখা রয়েছে, ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, হে আল্লাহ, আপনি সর্বশক্তিমান। আপনার কাছে আমার একটি প্রিয় স্বপ্নের কথা জানাচ্ছি। আমি চাই ২০৩০ সালের ফুটবল বিশ্বকাপে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশ অংশগ্রহণ করুক। লাল-সবুজের পতাকা বিশ্বকাপের মাঠে উড়ুক এবং কোটি বাংলাদেশির স্বপ্ন পূরণ হোক। হে আল্লাহ, আমাদের দেশে ফুটবলকে উন্নত করুন, খেলোয়াড়দের সফলতা দান করুন এবং বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে গৌরবের সঙ্গে তুলে ধরার তাওফিক দিন। আমিন...(একজন স্বপ্নবাজ বাংলাদেশি ফুটবলপ্রেমী)।’

আরেকটি চিঠিতে মোনালিসা নামের একজন এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছেন। অন্য একটি চিঠিতে একজন লিখেছেন, তাঁর অন্তরের মানুষ যেন তাঁর জীবনে ফিরে আসেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দানবাক্স থেকে চিঠি উদ্ধারের ঘটনা

মসজিদ কর্তৃপক্ষ জানায়, দানবাক্সে চিঠি পাওয়া নতুন কোনো ঘটনা নয়। প্রায় প্রতিবারই এমন চিঠি পাওয়া যায়। তবে এবার চিঠির সংখ্যা অন্যবারের তুলনায় বেশি। ৪৩ বস্তা টাকার সঙ্গে প্রায় এক বস্তা চিঠি পাওয়া গেছে।

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দানবাক্সে অতিরিক্ত চিঠি রাখার কারণে অনেক সময় দান করতে আসা মানুষ টাকাও ঠিকমতো রাখতে পারেন না। এ ছাড়া এসব চিঠির ছবি বা তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে নানা ধরনের হাস্যরস ও বিরূপ মন্তব্যও হয়। তাই এবার চিঠিগুলো আলাদা একটি বস্তায় ভরে মুখ বেঁধে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে দানবাক্সে অপ্রয়োজনীয় চিঠি না রাখার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দানের পরিমাণ ও গণনা

প্রায় ছয় মাস পর আজ সকালে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খোলা হয়। এতে রেকর্ড ৪৩ বস্তা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। সকাল সাতটায় জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ পরিচালনা কমিটির সভাপতি সোহানা নাসরিনের তত্ত্বাবধানে টাকা গণনা শুরু হয়।

দুপুর ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ও ৫০০ টাকার নোটের প্রায় ১০ কোটি টাকা গণনা শেষে রূপালী ব্যাংকে পাঠানো হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করে রূপালী ব্যাংকের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. রফিকুল ইসলাম জানান, সন্ধ্যা পর্যন্ত টাকা গণনার কাজ চলবে। তাঁর আশা, এবার মোট দানের পরিমাণ আগেরবারের প্রায় পৌনে ১২ কোটি টাকার রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।