ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলায় সাড়ে চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার দায়ে আবু তাহের (৩৩) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এ ছাড়া লাশ গুমের চেষ্টার অপরাধে তাঁকে আরও ৭ বছরের কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৩ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
রায় ঘোষণা
আজ সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঝিনাইদহ শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. ছালেহউজ্জামান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবু তাহের আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার বিবরণ
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে উপজেলার একটি গ্রামে চিপস ও জুস কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে নিজের ঘরে ডেকে নেন প্রতিবেশী আবু তাহের। সেখানে শিশুটির ওপর পাশবিক নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে চিৎকার করতে গেলে আবু তাহের নিজের লুঙ্গি দিয়ে শিশুটির মুখ ও নাক চেপে ধরেন। এতে শ্বাসরোধে মারা যায় শিশুটি। পরে ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওই রাতেই শিশুটির মরদেহ বস্তায় ভরে পাশের একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সেপটিক ট্যাংকের ভেতর লুকিয়ে রাখা হয়।
গ্রেপ্তার ও বিচার প্রক্রিয়া
ঘটনার পরপরই আবু তাহের পালিয়ে যান, তবে ওই রাতেই কুষ্টিয়া শহরের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের পর আসামি আবু তাহের পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। আবু তাহের একটি কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।
আদালত সূত্র আরও জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেল্লাল হোসেন গত ২৬ মে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। ১৭ জুন মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়। পরবর্তী ৫ কর্মদিবসে মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও শুনানি শেষে গতকাল রোববার যুক্তিতর্ক শেষ হয়। আজ আদালত এই মামলার রায় ঘোষণা করলেন।
প্রতিক্রিয়া
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় শিশুটির বাবা বলেন, আদালত যে রায় দিয়েছেন, তাতে তাঁরা সন্তুষ্ট। এখন একমাত্র দাবি, এ রায় যেন দ্রুত বাস্তবায়ন করা হয়।
রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) আকিদুল ইসলাম বলেন, এটি একটি নৃশংস হত্যাকাণ্ড ছিল। বিজ্ঞ বিচারক যে রায় ঘোষণা করেছেন, তাতে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আশরাফুল ইসলাম জোয়ার্দার রায়ের পর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।



