নাটোরে মেয়ে-জামাতার বিরুদ্ধে বাবা-মাকে তালাবদ্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ
নাটোরে মেয়ে-জামাতার বিরুদ্ধে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুরের অভিযোগ

নাটোরের গুরুদাসপুরে মা-বাবাকে ঘরে তালাবদ্ধ করে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ভাঙচুর ও লুটপাটসহ জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে মেয়ে ও জামাতার বিরুদ্ধে। সোমবার সকালে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় পুরানপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী বাবা মসলেম সরকার (৬২) থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

অভিযোগের বিবরণ

মসলেম সরকার জানান, তিনি তাঁর পাঁচ মেয়ের নামে ৫৬ দশমিক ৫০ শতক জায়গা শর্তসাপেক্ষে লিখে দিয়েছিলেন। শর্ত ছিল, তিনি ও তাঁর স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৫৫) যত দিন জীবিত থাকবেন, জায়গাটি তাঁরাই ভোগ করবেন। সেই শর্ত অনুযায়ী ওই জায়গায় দুটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান করে ভাড়া দিয়ে তিনি জীবিকা নির্বাহ করতেন। সোমবার সকালে সরোয়ার শাহের নেতৃত্বে ১০-১৫ জন এসে তাঁদের ঘরে তালাবদ্ধ করে এবং ভাড়া দেওয়া দুই ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাট চালিয়ে জায়গা দখলে নেয়।

পুলিশের পদক্ষেপ

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) আকবর আলী বলেন, সরকারি জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে তালা ভেঙে ভুক্তভোগী বৃদ্ধ দম্পতিকে উদ্ধার করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তিনি আরও বলেন, অভিযোগ তদন্ত করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পারিবারিক জমি বিরোধ

মসলেম সরকার জানান, জমি লিখে দেওয়ার পর অন্য চার মেয়ে কিছু না বললেও মেয়ে বিউটি বেগম (৪০) তাঁর স্বামী পুলিশ কনস্টেবল আবু সাইদের (৫০) প্ররোচনায় বাড়িসংলগ্ন ১৬ শতক জমি দখলে নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেন। এ নিয়ে পারিবারিক অশান্তি লেগে থাকত। বাধ্য হয়ে তিনি মেয়ে বিউটি বেগমকে লিখে দেওয়া জমির শর্ত বাতিল ও শান্তিভঙ্গের আশঙ্কায় আদালতে মামলা করেন, যা চলমান। এমন অবস্থায় বিউটি বেগম সন্ত্রাসী ভাড়া করে এনে জমি দখলে নেয় বলে অভিযোগ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম ও কামাল হোসেন বলেন, তাঁরা মসলেম সরকারের কাছ থেকে দোকান ভাড়া নিয়ে ব্যবসা করছিলেন। বাবা-মেয়ের দ্বন্দ্বের কারণে তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট হয়েছে, যাতে কমপক্ষে পাঁচ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তাঁরা অভিযুক্তদের শাস্তি দাবি করেন।

অভিযুক্তদের বক্তব্য

অভিযুক্ত সরোয়ার শাহ বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত থাকলেও তাঁর কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। বিউটি বেগম প্রথম আলোকে বলেন, 'আমার জায়গা আমি দখলে নিয়েছি। স্বামী কর্মস্থলে থাকায় লোক ভাড়া করেছি।' তাঁর স্বামী আবু সাইদ বলেন, 'বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে দেনদরবার হলেও শ্বশুর জমির দখল ছাড়েননি। আমি ঘটনাস্থলে ছিলাম না। বিউটি কীভাবে দখল নিয়েছে তা বলতে পারব না।'