সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের যাত্রা শুরু, জানালেন মন্ত্রী
সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের যাত্রা শুরু

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম বলেছেন, দেশকে আঞ্চলিক অর্থনৈতিক ‘হাব’ হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। এ জন্য বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল খাতের উন্নতি অপরিহার্য। দক্ষ জনশক্তি, প্রযুক্তিগত ও কাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে এই খাতকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

কর্মশালার উদ্বোধন

রোববার রাজধানীর একটি হোটেলে ‘সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান ওভারভিউ’ শীর্ষক কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

বিমানবন্দর উন্নয়ন

আফরোজা খানম জানান, ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনাল এ বছরের শেষ নাগাদ যাত্রীদের জন্য চালু হবে। এ ছাড়া কক্সবাজার বিমানবন্দরকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর এবং সাতটি অব্যবহৃত বিমানবন্দর পুনরায় চালুর কাজ চলছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিশেষজ্ঞের উপস্থাপনা

কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল সংস্থার (আইসিএও) বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ এল আমিরি। তিনি বিভিন্ন দেশের সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়নের অভিজ্ঞতা, পরিকল্পনা প্রণয়নের প্রক্রিয়া ও কৌশলগত গুরুত্ব তুলে ধরেন। বাংলাদেশের জন্য কার্যকর জাতীয় মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশগ্রহণকারী

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আখতার। বেবিচকের চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তফা মাহমুদ সিদ্দিক অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, দেশের বিভিন্ন উড়োজাহাজ সংস্থার প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উড়োজাহাজ চলাচল খাতের বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনেরা কর্মশালায় অংশ নেন।

মাস্টারপ্ল্যানের গুরুত্ব

বেবিচকের তথ্য অনুযায়ী, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি সমন্বিত সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান (সিএএমপি) প্রণয়নের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হলো এই কর্মশালার মাধ্যমে। কর্মশালার সহযোগী ছিল আইসিএও ও সিভিল এভিয়েশন একাডেমি বাংলাদেশ।

কর্মশালায় বলা হয়, সিএএমপি হবে বেসামরিক উড়োজাহাজ চলাচল খাতের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি জাতীয় রোডম্যাপ। আগামী ২০ থেকে ৩০ বছর বা তার বেশি সময়ের জন্য দেশের উড়োজাহাজ চলাচল খাতের উন্নয়ন লক্ষ্য, অগ্রাধিকার ও কৌশলগত দিকনির্দেশনা নির্ধারণ করবে এই পরিকল্পনা। এর আওতায় বিমানবন্দরের অবকাঠামো উন্নয়ন, এয়ার নেভিগেশন সেবার আধুনিকায়ন, উড়োজাহাজ খাতের সম্প্রসারণ, দক্ষ জনবল গড়ে তোলা, নিরাপত্তা–সুরক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়ন, পরিবেশগত টেকসইতা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মান–চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রযুক্তিগত উন্নয়নের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে কোনো সমন্বিত জাতীয় সিভিল এভিয়েশন মাস্টারপ্ল্যান নেই। এই প্রেক্ষাপটে বেবিচক দেশের উড়োজাহাজ চলাচল খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের লক্ষ্যে এই মহাপরিকল্পনা প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে। আগামী এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে পরিকল্পনাটি প্রণয়ন সম্পন্ন হওয়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।