প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার প্রাক্তন শিক্ষার্থী মো. মানিক মিয়া আইনজীবী হতে চায়। সব ধরনের প্রতিকূল পরিবেশ আর সীমিত সুযোগ-সুবিধাকে জয় করে নিজের স্বপ্নকে বুকে ধারণ করে এগিয়ে চলেছেন কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের এইচএসসি পরীক্ষার্থী মো. মানিক মিয়া। প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা থেকে উঠে আসা এই তরুণ নিজের মেধা ও পরিশ্রমের জোরে ভবিষ্যতে একজন আইনজীবী হিসেবে সমাজে অবদান রাখতে চান।
প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা থেকে জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন
মানিক মিয়া প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালার একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী। পারিবারিকভাবে তীব্র আর্থিক সংকটের মুখোমুখি হওয়া সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনায় পিছিয়ে পড়েননি। কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে মানিক প্রথম আলো চর আলোর পাঠশালা থেকে এসএসসি পরীক্ষায় জিপিএ ৪.৫৬ অর্জন করে নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
পরিবার ও শিক্ষকদের সহযোগিতা
তার পিতা মো. মোশাররফ হোসেন পেশায় একজন সাধারণ কৃষক এবং মাতা মোছা. ফাতেমা বেগম গৃহিণী। একটি সীমিত আয়ের পরিবারে বেড়ে উঠলেও চরের এই অদম্য তরুণের পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ দেখে সব সময় পাশে থেকেছেন তার বাবা-মা এবং শিক্ষকেরা। শিক্ষকদের বিশেষ উৎসাহ এবং পরিবারের নিরলস সহযোগিতাই তাকে আজ এতদূর নিয়ে এসেছে।
চরাঞ্চলের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা থেকে অনুপ্রেরণা
ছোটবেলা থেকেই চরাঞ্চলের মানুষের নানা রকম দুঃখ-দুর্দশা আর সমাজের অসহায় মানুষের জীবন সংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখেছেন মানিক। প্রত্যন্ত চরের মানুষেরা প্রায়শই আইনি জটিলতা এবং নানাবিধ অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। এই নির্মম অভিজ্ঞতা থেকেই সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য মানিক একজন আইনজীবী হতে চায়।
মানিক মিয়ার বক্তব্য
এ ব্যাপারে মানিক বলে, 'আইনের সঠিক ও ন্যায়সংগত প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজের অসহায়, দরিদ্র এবং বিশেষ করে চরাঞ্চলের অবহেলিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। আইন পেশায় যুক্ত হয়ে চরের সাধারণ মানুষসহ দেশের সকল দুস্থ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আইনি লড়াইয়ে বিনামূল্যে বা সুলভে তাদের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের জন্য ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করতে চাই।'
এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি
সমাজের অন্ধকার দূর করে আলোর মশাল ছড়াতে চাওয়া মানিক মিয়া এখন এইচএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যাতে স্বপ্নের দোরগোড়ায় পৌঁছানোর প্রথম ধাপটি তিনি সফলভাবে পার করতে পারেন।



