বগুড়ায় জমিজমা বিরোধে জামায়াত নেতা নিহত, চাচা বিএনপি নেতা গ্রেফতার
বগুড়ায় জমিজমা বিরোধে জামায়াত নেতা নিহত, চাচা গ্রেফতার

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে হামলায় আহত জামায়াতে ইসলামীর নেতা সম্রাট হোসেন আকন্দ বাপ্পা (৪২) নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শনিবার (৪ জুলাই) মধ্যরাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে মারা গেছেন। রোববার (৫ জুলাই) দুপুরে দুপচাঁচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় নিহতের চাচা, ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক আবদুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

হামলার ঘটনা ও মৃত্যু

পুলিশ ও স্বজনরা জানান, নিহত সম্রাট হোসেন বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার সদর ইউনিয়নের ভেলুরচক গ্রামের রফিক আকন্দের ছেলে। তিনি দুপচাঁচিয়া সদর ইউনিয়ন জামায়াতে ইসলামীর যুব ও ক্রীড়া বিভাগের সহসভাপতি ছিলেন। তার চাচা আবদুল করিম আকন্দ একই গ্রামের মৃত নজির উদ্দিন আকন্দের ছেলে এবং ইউনিয়ন বিএনপির দপ্তর সম্পাদক।

রফিক আকন্দের সঙ্গে জমিজমার মালিকানা নিয়ে তার ছোট ভাই বিএনপি নেতা আবদুল করিম আকন্দের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে গত ২৫ জুন দুপুরে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আবদুল করিম আকন্দ তার লোকজন নিয়ে বড় ভাই রফিক আকন্দের ওপর হামলা চালান। এ সময় বাবাকে রক্ষা করতে গিয়ে ছেলে সম্রাট হোসেন হামলার শিকার হন। আহত হন তার বাবা রফিক আকন্দ (৬৮) ও মা জোসনা বেগম (৬২)। পরে আহতদের বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও গ্রেফতার

হামলার ঘটনায় বাপ্পার মা জোসনা বেগম গত ২৭ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় বিএনপি নেতা আবদুল করিম আকন্দসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। পুলিশ ১ জুলাই রাতে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর উপজেলার দাড়ালকুল গ্রাম থেকে আবদুল করিম আকন্দ ও তার স্ত্রী মিথিলাকে গ্রেফতার করে।

এদিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে অবস্থার অবনতি হলে সম্রাট হোসেনকে ঢাকার একটি হেলথ কেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার রাত ১২টার দিকে তিনি মারা যান।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের বক্তব্য

দুপচাঁচিয়া থানার ওসি তাজমিলুর রহমান জানান, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে চাচা বিএনপি নেতা ও ভাতিজা জামায়াত নেতার পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। রোববার দুপুরে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের মর্গে নিহত সম্রাট হোসেনের লাশ ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আইনগত প্রক্রিয়া শেষে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

তিনি আরও জানান, আগে দায়ের করা হত্যাচেষ্টার মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হবে। এ ছাড়া মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।