ইরানের কূটনৈতিক মঞ্চ: খামেনির শেষ বিদায়ে কোরআনের আয়াতের বার্তা
খামেনির শেষ বিদায়ে কোরআনের আয়াতের কূটনৈতিক বার্তা

তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ইরানের প্রয়াত সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির শেষ বিদায়ের অনুষ্ঠান চলছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হয়েছেন। এই সুযোগটিকে ইরান একটি কূটনৈতিক মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করছে, যার উদ্দেশ্য হলো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা যুদ্ধে নিজেদের বিজয়ী হিসেবে তুলে ধরা।

কোরআনের আয়াতের মাধ্যমে বার্তা

সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ হিসেবে, যেকোনও দেশের সরকারি প্রতিনিধিদল যখন খামেনি এবং তার পরিবারের সদস্যদের কফিনে শ্রদ্ধা জানাতে এগিয়ে আসছিলেন, তখনই পবিত্র কোরআনের আয়াত বাজানো হচ্ছিল। এই কোরআনের আয়াতগুলোর মাধ্যমে একটি বিশেষ বার্তা দেওয়া হচ্ছিল, যা ইরানের মিত্র এবং মার্কিন-সমর্থিত দেশগুলোর মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্যরেখা টেনে দেয়। একই সঙ্গে তেহরান ভবিষ্যতে কেমন সম্পর্ক বজায় রাখতে চায়, তারও ইঙ্গিত দেওয়া হচ্ছে এতে।

সৌদি আরবের প্রতিনিধিদলের ক্ষেত্রে বিশেষ আয়াত

এই বিষয়টি সবচেয়ে বেশি নজরে আসে যখন সৌদি আরবের প্রতিনিধিদল শ্রদ্ধা জানাতে সামনে এগিয়ে যায়। তখন পবিত্র কোরআনের সূরা আল-ইমরানের ১৩ নম্বর আয়াতটি তিলাওয়াত করা হয়। এই আয়াতে ঐতিহাসিক ‘বদর যুদ্ধের’ বিবরণ রয়েছে, যা ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে বর্তমান সৌদি আরব অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল। ইসলামের প্রথম দিকের অন্যতম এই বিজয় তেহরান ও রিয়াদের একটি যৌথ সভ্যতার স্মৃতি। আয়াতটিতে বর্ণনা করা হয়েছে যে, এক পক্ষ আল্লাহর পথে লড়াই করছিল এবং অন্য পক্ষ ছিল অবিশ্বাসী; আর আল্লাহ যাকে ইচ্ছা তাঁর সাহায্য দিয়ে শক্তিশালী করেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সৌদি আরবের সামনে এই আয়াতটি বাজানোর উদ্দেশ্য ছিল অত্যন্ত স্পষ্ট। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সৌদির গভীর সম্পর্ক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের পক্ষে সৌদির সমর্থন রয়েছে বলে ওঠা বিভিন্ন প্রতিবেদনের দিকেই মূলত এর মাধ্যমে ইঙ্গিত করা হয়েছে। খামেনির শেষ বিদায়ে সৌদি আরব শুরুতে প্রতিনিধিদল পাঠাতে চায়নি। পরে অবশ্য প্রতিনিধিদল পাঠায় রিয়াদ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

যুদ্ধের প্রেক্ষাপট

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে মার্কিন ও ইসরায়েলি যৌথ হামলার প্রতিশোধ হিসেবে ইরান তার প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোতে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় মার্কিন ও ইসরায়েলি সামরিক সম্পদের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, যুদ্ধের প্রথম সপ্তাহগুলোতে সৌদির বিমান প্রতিরক্ষা বাহিনী অন্তত ৪৩৮টি ড্রোন এবং ৩৬টি ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে। সৌদির বেশিরভাগ তেল স্থাপনা সমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটিই ছিল এই ড্রোন হামলাগুলোর প্রধান লক্ষ্য।