বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীকে গুমের ঘটনায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন সেনাসদস্য ইমরুল কায়েস। রোববার (২১ জুন ২০২৬) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ তিনি জবানবন্দি দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের একটি মামলায় মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় পঞ্চম সাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দি দেন ইমরুল কায়েস।
জবানবন্দিতে যা বলেছেন ইমরুল কায়েস
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস বলেন, ২০০১ সালে তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে সৈনিক হিসেবে আর্মাড কোরে যোগদান করেন। ২০১০ থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত র্যাব হেড কোয়ার্টারে প্রেষণে কর্মরত ছিলেন। র্যাব ইন্টেলিজেন্সের পরিচালকের ‘রানার’ হিসেবে নিয়োগ পান। রানার হিসেবে তিনি জিয়াউল আহসানের সঙ্গে থাকতেন।
ইলিয়াস আলীর গুম হওয়া প্রসঙ্গে ইমরুল কায়েস জবানবন্দিতে বলেন, ‘২০১২ সালের সম্ভবত ১৩ এপ্রিল হেডকোয়ার্টার থেকে একটি মাইক্রোবাসে করে জিয়া স্যার, মেজর নওশাদ স্যার, স্কোয়াড্রন লিডার সাইফ স্যারসহ আমরা মহাখালী ফ্লাইওভারের নিকট যাই। কাকে গাড়িতে পিক করবে, তা আমি জানতাম না। জিয়া স্যার গাড়িতে বসে বিভিন্ন জায়গায় ফোন করছিলেন। টার্গেট কখন আসবে, তা জানার জন্য ফোন করছিলেন। একটা পর্যায়ে জানা যায় যে টার্গেট আসবে না। পরে সেখান থেকে জিয়া স্যারকে বাসায় নামিয়ে দিই এবং স্যারকে বলে পরের দিন সকালে আমি ৯ দিনের ছুটিতে যাই।’
ছুটির পর থমথমে পরিবেশ
ইমরুল কায়েস বলেন, ‘ছুটিতে থাকা অবস্থায় মিডিয়ার মাধ্যমে আমি জানতে পারি যে ইলিয়াস আলী নামের একজন বিএনপি নেতাকে মহাখালী ওভারব্রিজের ওখান থেকে অপহরণ করা হয়েছে। ৯ দিন ছুটি শেষে এপ্রিল মাসের ২৩ তারিখে আমি কর্মস্থলে যোগদান করি। যোগদানের পর আমি র্যাব হেডকোয়ার্টারে থমথমে পরিবেশ লক্ষ করি। অন্য সদস্যদের মাধ্যমে জানতে পারি, কোতের অস্ত্রের ইন-আউট রেজিস্টার এবং সিসিটিভি ফুটেজ জিয়া স্যার নষ্ট করে ফেলেন।’
জবানবন্দিতে ইমরুল কায়েস আরও বলেন, একদিন জিয়াউল আহসান ফোনে কথা বলছিলেন। ওই সময় স্যারের ফোনে অন্য একটি কল এলে স্যার বলেন, ‘তুই রাখ, তারেক স্যার (সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক) ফোন দিয়েছেন।’ জিয়া স্যার তারেক স্যারের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। অপর প্রান্তে কী বলেছে, তা তিনি জানেন না। তবে জিয়া স্যার অভিযোগের সুরে বলছিলেন, ‘স্যার, আপনাদের কথামতো ইলিয়াসকে গলফ করলাম, এখন আপনারা এমন করলে হবে! এর চেয়ে আমি কমান্ডো মানুষ, আমাকে জঙ্গলে পোস্টিং দিয়ে পাঠায়ে দেন, এটাই আমার ভালো।’
মামলার বর্তমান অবস্থা
এই মামলার একমাত্র আসামি মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান। জবানবন্দির সময় তিনি ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। ইলিয়াস আলী গুমের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এই জবানবন্দি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।



