প্রথম আলোর সাক্ষাৎকারে ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হওয়া বাচ্চু রহমান জানিয়েছেন, পুলিশ ক্যাডারই তার লক্ষ্য ছিল। এর আগে একই বিসিএসের শিক্ষা ক্যাডারেও (মার্কেটিং) প্রথম হয়েছিলেন তিনি।
পুলিশ ক্যাডারই ছিল লক্ষ্য
বাচ্চু রহমান বলেন, 'হ্যাঁ, পুলিশ ক্যাডারই লক্ষ্য ছিল। বিশ্ববিদ্যালয়–জীবনের শুরু থেকে পুলিশে কাজ করার ইচ্ছা তীব্র হতে থাকে। মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও আইনশৃঙ্খলা বিধানে কাজ করতে পারা সৌভাগ্যের বিষয়। শিক্ষা ক্যাডারে কাজ করতে পারাও সৌভাগ্যের। যদি পুলিশ ক্যাডার না আসত, তাহলে আনন্দের সঙ্গে শিক্ষা ক্যাডারে কাজ করতাম। তবে এএসপি হওয়া আমার স্বপ্ন ছিল।'
বর্তমানে চাকরি করছেন না
বর্তমানে তিনি কোনো চাকরি করছেন না বলে জানান। বাচ্চু বলেন, 'না। বর্তমানে কোনো চাকরি করছি না।'
দুইবার প্রথম হওয়ার কৌশল
দুইবার প্রথম হওয়া প্রসঙ্গে বাচ্চু বলেন, 'আমার কৌশল হলো বেশি কৌশলী না হওয়া। বেশি শর্টকাট না পড়ে প্রত্যেকটা বিষয় বুঝে বুঝে পড়া। একটি টপিক বা অধ্যায় একটানা কয়েক দিন ধরে পড়া। বাংলাদেশ বিষয়াবলির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইট ঘাঁটাঘাঁটি করে তথ্য বের করা, বিবিএস থেকে লেবার ফোর্স সার্ভে, আদমশুমারি, অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইট থেকে নানা রিপোর্ট খুঁজে বের করা। যেমন এডুকেশন স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্ট, সংরক্ষিত বনাঞ্চলের তালিকা, বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতার চিত্র ইত্যাদি। এ ছাড়া প্রচুর পরিমাণে পেপার পড়তাম। পেপার থেকে প্রচুর নোট নিতাম। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে বিজ্ঞান পাইসি ও খান একাডেমির ভিডিও-ও আমাকে খুব সাহায্য করেছে। এ ছাড়া সারা দিন পড়া শেষে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কী কী পড়লাম, সেটার একটা রিক্যাপ করতাম। ইংরেজির জন্য বেশি বেশি দ্য ডেইলি স্টার পড়তাম। সব মিলিয়ে অনুসন্ধানী পড়াশোনা ছিল আমার অন্যতম শক্তি।'
খারাপ সময়ে অনুপ্রেরণা
খারাপ সময়ে নিজেকে কীভাবে অনুপ্রাণিত করেছেন জানতে চাইলে বাচ্চু বলেন, '২০২৩ সালে স্নাতক শেষ করার পর টানা দুই বছর বেকার ছিলাম, তখন সময়টা একটু খারাপ গিয়েছিল। কিন্তু বন্ধুবান্ধব আর রুমের ছোট ভাইদের অনুপ্রেরণায় একরকম আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমার প্রাপ্য একদিন না একদিন পাব ইনশা আল্লাহ। এ ছাড়া আমার পরিবার, বিশেষত আমার ভাই ও আব্বু, সব সময় আমাকে সাপোর্ট করত।'
আত্মবিশ্বাস কখনো হারাননি
কখনো মনে হয়েছে কি, 'আমাকে দিয়ে হবে না'? জবাবে বাচ্চু বলেন, 'সত্যি বলতে পড়াশোনায় এত বেশি মেতে ছিলাম যে ওসব মাথায় আসেনি। একটা ভীষণ আত্মবিশ্বাস ছিল যে আমি সফল হবই। এমনকি আমি আমার বন্ধুবান্ধবকেও বলতাম—বন্ধু, পরিশ্রম করলে ফল অনিবার্য। তাই নিজের ওপর কখনো বিশ্বাস হারাইনি।'
শিক্ষাজীবন ও শৈশবের স্বপ্ন
স্কুল-কলেজ কোথায় ছিল জানতে চাইলে বাচ্চু বলেন, 'আমার স্কুল যশোরের কানাইডাঙ্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়। কলেজও যশোরে। পাঁজিয়া মহাবিদ্যালয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অনার্স করেছি। শৈশবে আসলে আমি অত মেধাবী ছিলাম না। বড় কিছু হওয়ার স্বপ্ন দেখার দুঃসাহসও ছিল না। কিন্তু পুলিশ বা সেনাবাহিনীর চাকরি করার একটা সুপ্ত ইচ্ছা মনে মনে ছিল। এএসপি হওয়ার স্বপ্ন দেখা শুরু করেছিলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শুরুর দিকে। সেই থেকে আমার বিসিএস যাত্রা শুরু হয়।'
পুলিশের চাকরি নিয়ে টেনশন নাকি রোমাঞ্চ
পুলিশের চাকরি চ্যালেঞ্জিং—একটু কি টেনশন হচ্ছে নাকি রোমাঞ্চটাই বেশি অনুভব করছেন? বাচ্চু বলেন, 'পুলিশের চাকরিটাই এখন আমার স্বপ্নজগতের পুরোটা দখল করে আছে। হ্যাঁ, পুলিশের দায়িত্ব অবশ্যই জটিল, চ্যালেঞ্জিং। আমি এটা জেনেশুনে বেছে নিয়েছিলাম। কারণ, এখানে আপনি মানুষের জন্য যতটা কাজ করতে পারবেন, অন্য পেশায় হয়তো ততখানি সম্ভব নয়। আমার মাধ্যমে যদি আইনশৃঙ্খলার বিন্দু পরিমাণ উন্নতি হয়, নিজেকে ধন্য মনে করব। মানুষের জন্য কতটা কাজ করতে পারব, সেটা নিয়ে কিছুটা উদ্বিগ্ন আছি। কিন্তু পেশায় যোগদানের ব্যাপারে আমি ভীষণ এক্সাইটেড। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন দেশের জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিতে পারি।'



