জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কল্যানাংশু নাহাকে সরকার উৎখাতের পরিকল্পনা করার অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রারের দায়িত্বে থাকা দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়। তবে আজ শনিবার বিষয়টি জানাজানি হয়।
অভিযোগের বিবরণ
সাময়িক বরখাস্তের চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, কল্যানাংশু নাহা ‘বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি প্রোগ্রেসিভ টিচার্স সোসাইটি’ নামের একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে ২৬ জুন অনুষ্ঠিত একটি সভায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বক্তব্য দেন। কর্তৃপক্ষের কাছে ভিডিও ও অডিও সংরক্ষিত রয়েছে। সেখানে তিনি নিজের রাজনৈতিক আদর্শের সরকার প্রতিষ্ঠা করার বিষয়ে করণীয় উল্লেখসহ বর্তমান নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন, যা চাকরিবিধির পরিপন্থী।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় আইন ২০০৬-এর ধারা ৪৩ (৪) এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী (দক্ষতা ও শৃঙ্খলা) সংবিধি অনুযায়ী শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্তের স্বার্থে তাঁকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
রেজিস্ট্রার দপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক খন্দকার নাজমুল হাসান বলেন, ‘কর্তৃপক্ষের নির্দেশক্রমে ওই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এটি তদন্তের জন্য প্রস্তাব করা হয়েছে। তদন্তের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। এর চেয়ে বেশি আপাতত কিছু বলা সম্ভব নয়।’
বরখাস্ত শিক্ষকের অবস্থান
এ বিষয়ে কথা বলতে সাময়িক বরখাস্ত হওয়া শিক্ষক কল্যানাংশু নাহার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে চারুকলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান তপন কুমার সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার শেষবেলায় আমরা সাময়িক বরখাস্তের অনুলিপি পেয়েছি। এ বিষয়ে এর চেয়ে বেশি কিছু বলা সম্ভব না।’



