সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সভাপতি ও এজি কাজলসহ ১৪ আইনজীবীর মামলা থেকে অব্যাহতি
সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সভাপতি ও এজি কাজলসহ ১৪ আইনজীবীর অব্যাহতি

সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিল সভাপতি ও এজি কাজলসহ ১৪ আইনজীবীর মামলা থেকে অব্যাহতি

২০২৩ সালের সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে পুলিশের ওপর হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে শাহবাগ থানার একটি মামলা থেকে সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলরের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সুপ্রিম কোর্টের ১৪ আইনজীবীকে অব্যাহতি দিয়েছেন আদালত। রবিবার (১৯ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা পুলিশের দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদন গ্রহণ করে মামলার দায় থেকে তাদের অব্যাহতি দেন।

পুলিশের তদন্ত ও সুপারিশ

এর আগে মামলার তদন্তে তাদের বিরুদ্ধে কোনও সাক্ষ্য প্রমাণ না পেয়ে গত বছরের ৩০ জুন অব্যাহতির সুপারিশ করে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে পুলিশ। এই প্রতিবেদনটি আদালত কর্তৃক গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হয় এবং পুলিশের সুপারিশের ভিত্তিতে আইনজীবীদের অব্যাহতি দেওয়া হয়। পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয় এবং অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে পর্যাপ্ত প্রমাণের অভাব লক্ষ্য করা যায়।

অব্যাহতি পাওয়া অন্যান্য আইনজীবীরা

অব্যাহতি পাওয়া অন্য আইনজীবীরা হলেন– অ্যাডভোকেট মনজুরুল আলম সুজন, অ্যাডভোকেট মাহফুজ বিন-ইউসূফ, অ্যাডভোকেট নূরে আলম সিদ্দিকী সোহাগ, অ্যাডভোকেট মাহদিন চৌধুরী, অ্যাডভোকেট গোলাম আক্তার জাকির, অ্যাডভোকেট কামরুল হাসান সোহাগ, অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম, অ্যাডভোকেট মোক্তার কবির খান, অ্যাডভোকেট আশরাফ-উজ-জামান খান, অ্যাডভোকেট সালাহ উদ্দিন রিগ্যান, অ্যাডভোকেট কাজী জয়নাল আবেদীন ও অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান খান। এই আইনজীবীরা সকলেই সুপ্রিম কোর্টের স্বনামধন্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত এবং তাদের পেশাগত দক্ষতা ও সততার জন্য সমাদৃত।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও অভিযোগ

মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৫ মার্চ সুপ্রিম কোর্ট বার সমিতি নির্বাচনে হট্টগোল এবং পুলিশের উপর হামলা ও পুলিশের কাজে বাধা দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরের দিন এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন ও ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ সুপ্রিম কোর্টের ১৪ আইনজীবীকে আসামি করে শাহবাগ থানায় একটি মামলা করেন একই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) গোলাপ উদ্দিন মাহবুব। এই মামলাটি আইনী প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে চলমান ছিল এবং শেষ পর্যন্ত পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

আদালতের সিদ্ধান্তের তাৎপর্য

আদালতের এই সিদ্ধান্ত আইনী ব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পুলিশের তদন্তে প্রমাণের অভাব পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া বাংলাদেশের আইনী প্রথার একটি সাধারণ রীতি। এই ঘটনাটি আইনজীবী সম্প্রদায়ের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এবং আইনী প্রক্রিয়ার গুরুত্বকে আরও উজ্জ্বল করেছে। আদালতের রায়ে জোর দেওয়া হয়েছে যে, কোনও অভিযোগ প্রমাণিত না হলে অভিযুক্তদের অব্যাহতি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত।