চট্টগ্রামে কলেজছাত্র সাজিদ হত্যা মামলায় আরও দুই আসামি গ্রেফতার, মোট গ্রেফতার ৬
সাজিদ হত্যা মামলায় আরও দুই গ্রেফতার, মোট ৬

চট্টগ্রামে কলেজছাত্র হত্যা মামলায় র‌্যাবের অভিযানে আরও দুই আসামি গ্রেফতার

চট্টগ্রামে বিএএফ শাহীন কলেজের ছাত্র আশফাক কবির সাজিদকে আটতলা ভবন থেকে লিফটের গর্তে ফেলে হত্যার ঘটনায় র‌্যাব আরও দুই আসামিকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) রাতে খাগড়াছড়ি ও বাগেরহাট জেলায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করা হয়।

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেফতারকৃতরা হলেন সীতাকুণ্ড থানাধীন রহমতপুর এলাকার মো. হাফেজের ছেলে মো. রানা এবং নগরীর চকবাজার থানাধীন দেওয়ান বাজার এলাকার মৃত নুর আলমের ছেলে মো. ইলিয়াস। এ নিয়ে এই মর্মান্তিক হত্যা মামলায় মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করা হলো। এর আগে চকবাজার থানা পুলিশ আরও চারজনকে গ্রেফতার করেছিল।

র‌্যাব কর্মকর্তার বক্তব্য

র‌্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) এআরএম মোজাফফর হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শনিবার রাতে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি থানাধীন মহামুনি বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ৩ নাম্বার আসামি মো. রানাকে গ্রেফতার করা হয়। একই রাতে বাগেরহাট জেলার ফকিরহাট থানাধীন বড় খাজুরা হাট পূর্বপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে ইলিয়াসকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারদের পরে চকবাজার থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যাকাণ্ডের পটভূমি

প্রসঙ্গত, সাজিদ লেখাপড়ার সুবাদে ডিসি রোড শিশু কবরস্থানের পাশে কেএম মঞ্জিলের ষষ্ঠতলায় ব্যাচেলর হিসেবে ভাড়া বাসায় থাকতেন। গত সোমবার চকবাজার থানার মৌসুমি আবাসিক এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এজাহার সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন বিকালে সাজিদের বন্ধু ফারদিন হাসানকে মোবাইলে ডেকে বাকলিয়া এক্সেস রোডের মৌসুমি আবাসিক মোড়ে দেখা করেন। সেখানে কথা বলার সময় আইমন, অনিক, মাইকেল রানা, ইলিয়াস, এনায়েত উল্লাহ ও মিসকাতুল কায়েসসহ কয়েকজন কিশোর গ্যাং সদস্য তাদের ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নিয়ে যায়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার নির্মম ঘটনা

পরে প্রাণ বাঁচাতে সাজিদ কৌশলে একটি ভবনে ঢুকে ৮ তলায় উঠে যান। দারোয়ান গেট খুলে দিলে কিশোর গ্যাং সদস্যরা ভেতরে ঢুকে তাকে মারধর করে আটতলা ভবনের লিফটের গর্তে ফেলে দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় সমাজে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতারে তৎপরতা চালাচ্ছে।