শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় দুজনের যাবজ্জীবন, একজনের ১৪ বছরের কারাদণ্ড
শিশু হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন ও ১৪ বছরের কারাদণ্ড

শিশু অপহরণ ও হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায়

ঢাকার কাফরুলে ২০০৮ সালে সংঘটিত ১১ বছর বয়সী শিশু মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে মিলনের অপহরণ ও হত্যার মামলায় দুজন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আরেকজন আসামিকে ১৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।

আদালতের রায় ঘোষণা

ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪-এর বিচারক মুন্সী মো. মশিউর রহমান আজ রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. এরশাদ আলম (জর্জ) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের পরিচয়

যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন আল আমিন ঘরামী ও মাসুদ রানা। অন্যদিকে, ১৪ বছরের কারাদণ্ড পাওয়া আসামির নাম সাইফুল ইসলাম ওরফে ছোট সাইফুল। প্রত্যেক আসামিকে কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও দেওয়া হয়েছে। এই অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ রয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতে উপস্থিতি ও পলাতক আসামি

রায় ঘোষণার সময় আসামি মাসুদ রানা আদালতে উপস্থিত ছিলেন এবং তাঁকে পরে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে অন্য দুই আসামি আল আমিন ঘরামী ও সাইফুল ইসলাম পলাতক রয়েছেন। আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।

অভিযোগ প্রমাণ ও খালাস

অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় ট্রাইব্যুনাল মো. আবদুল মোতালেব ওরফে মোতা এবং আমিরুল ইসলাম ওরফে রুবেলকে খালাস দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত মামলার প্রমাণের ভিত্তিতে গৃহীত হয়েছে।

মামলার পটভূমি

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৮ সালের ৬ মার্চ কাফরুল থানার উত্তর সেনপাড়া এলাকা থেকে শিশু শফিকুল ইসলাম নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের কাছে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। মুক্তিপণের টাকা না পেয়ে আসামিরা শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন এবং লাশ গোপন করতে সাভারের নদীতে ফেলে দেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলা ও বিচার প্রক্রিয়া

এই ঘটনায় শিশুটির বাবা শহিদুল ইসলাম কাফরুল থানায় মামলা দায়ের করেন। বিচার প্রক্রিয়ায় আদালত ৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেছেন, যা রায় প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। এই মামলা শিশু অধিকার ও নিরাপত্তা বিষয়ে সমাজে সচেতনতা বৃদ্ধির দাবি জানাচ্ছে।