পাঁচ বছর পর গ্রেপ্তার: অপহরণ ও ছিনতাই মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত হোসেন
পাঁচ বছর পর গ্রেপ্তার: অপহরণ মামলার পলাতক আসামি

পাঁচ বছর পর গ্রেপ্তার: অপহরণ ও ছিনতাই মামলার পলাতক আসামি শাহাদাত হোসেন

রাজধানীর কাফরুল থানায় সংঘটিত একটি অপহরণ ও ছিনতাই মামলার পলাতক আসামিকে পাঁচ বছর পর গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডি। বৃহস্পতিবার কাফরুল এলাকা থেকে মো. শাহাদাত হোসেন নামের এই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, শাহাদাত হোসেন বয়সে ৩৮ বছর এবং তিনি দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে আত্মগোপনে ছিলেন।

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

মামলার তথ্যানুসারে, ২০২১ সালের ৬ ডিসেম্বর ঢাকার মহাখালী এলাকার ইউসুফ লাইন পার্কের সামনে থেকে এক নারীকে জোরপূর্বক একটি প্রাইভেট গাড়িতে তুলে নিয়ে অপহরণ করা হয়। অপহরণকারীরা তাকে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে মারধর করে এবং তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ ও স্বর্ণালংকার ছিনিয়ে নেয়। একপর্যায়ে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলেও পরে ফার্মগেট এলাকায় নারীটিকে নামিয়ে দিয়ে তারা পালিয়ে যায়।

এই ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়, যেখানে প্রথমে একজন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে অপর দুজন আসামিকে তখন শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে আদালতের নির্দেশে মামলাটি অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব পায় সিআইডি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

তদন্তের অগ্রগতি ও গ্রেপ্তারের কারণ

সিআইডির গণমাধ্যম শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন খান জানান, তদন্তে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ ও অন্যান্য তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত হওয়া যায় যে, নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া শাহাদাত হোসেন ঘটনার দিন ব্যবহৃত প্রাইভেট গাড়িটির চালক ছিলেন। তিনি এজাহারভুক্ত আসামির সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

নারীকে অপহরণের সঙ্গে শাহাদাত হোসেনের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আত্মগোপনের সময়কাল ও আইনি পদক্ষেপ

শাহাদাত হোসেনের পাঁচ বছর আত্মগোপনে থাকার বিষয়টি সিআইডি নিশ্চিত করেছে। এই দীর্ঘ সময় তিনি বিভিন্ন স্থানে লুকিয়ে ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। মামলাটির তদন্তে সিআইডির সক্রিয় ভূমিকা এবং প্রযুক্তিগত সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।

আদালতের নির্দেশে মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর সিআইডি বিস্তারিত অনুসন্ধান চালায়। তদন্তকারীরা বিভিন্ন সূত্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করে এবং ডিজিটাল প্রমাণ বিশ্লেষণের মাধ্যমে শাহাদাত হোসেনের অবস্থান শনাক্ত করতে সক্ষম হয়।

গ্রেপ্তারের পর শাহাদাত হোসেনকে কাফরুল থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ পরিচালনা করা হয়। তিনি অপহরণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। এখন তাকে আদালতে হাজির করার প্রস্তুতি চলছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।

এই গ্রেপ্তার অপহরণ ও ছিনতাইয়ের মতো গুরুতর অপরাধ মোকাবিলায় আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতা প্রদর্শন করে। সিআইডি আশা প্রকাশ করেছে যে, শীঘ্রই অন্যান্য আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা যাবে।