যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবির নেতাদের গুলি মামলায় ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য
চৌগাছা গুলি মামলায় ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের দিন

যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবির নেতাদের গুলি মামলায় ২০ এপ্রিল অভিযোগ গঠনের দিন ধার্য

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ যশোরের চৌগাছা উপজেলায় ছাত্রশিবিরের দুই নেতাকে গুলি করার মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের জন্য আগামী ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করেছে। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন।

আসামিদের অব্যাহতি আবেদন নাকচ

ট্রাইব্যুনালে শুনানিতে আসামি কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হকের পক্ষে আইনজীবী লিটন আহমেদ অব্যাহতি চেয়ে যুক্তি তুলে ধরেন। তিনি দাবি করেন যে, এই ঘটনাটি মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে না এবং এটি ওয়াইড স্প্রেড বা সিস্টেমেটিক অ্যাটাক নয়। একইভাবে এসআই আকিকুল ইসলামের আইনজীবীও তার মক্কেলের অব্যাহতি কামনা করেন।

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম এ সময় ওয়াইড স্প্রেড ও সিস্টেমেটিক অ্যাটাকের আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করেন। তিনি ট্রাইব্যুনালকে জানান, ২০০৯-২০২৪ সাল পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অধিকারের প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। এই সময়কালে লক্ষ্যভুক্ত ব্যক্তিদের তুলে নিয়ে যাওয়া হতো, যা প্রমাণ করে চৌগাছার ঘটনাটিও সিস্টেমেটিক অ্যাটাক ও ওয়াইড স্প্রেডের অংশ।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ

প্রসিকিউশনের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি ইসরাফিল হোসেন ও সাহিত্য সম্পাদক রুহুল আমিনকে মিথ্যা মামলায় আটক করে পুলিশ। আদালতে না তুলে পরপর দুই রাত তাদের নির্যাতন করা হয়। এরপর তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমানের নির্দেশে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের দিয়ে বন্দুকযুদ্ধের নাটক সাজিয়ে দুজনের পায়ে গুলি করানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গুলির পর ক্ষতস্থানে বালু ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে তাদের হাসপাতালে নেওয়া হয়। বালু ঢোকানোর কারণে দুজনের পায়ে পচন ধরে এবং পরবর্তীতে পা কেটে ফেলতে বাধ্য করা হয়। পরে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আবেদন করা হয়। গত ১২ এপ্রিল প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করেন।

গ্রেফতার ও পলাতক আসামি

এদিন সকালে মামলায় গ্রেফতার তিন আসামি চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান ও কনস্টেবল জহরুল হককে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন যশোরের তৎকালীন এসপি আনিসুর রহমান, চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, জামাল ও মাজেদুল।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নিয়ে ট্রাইব্যুনাল-১ পাঁচজনকে গ্রেফতারের জন্য পরোয়ানা ও তিনজনকে হাজিরের নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়, যা এই মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে।

উভয়পক্ষের শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে আদেশের জন্য ২০ এপ্রিল দিন ধার্য করে, যা এই মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।