ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল, নিষিদ্ধ সংগঠনের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত
ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতিতে ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

ময়মনসিংহ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বড় ধরনের বিতর্ক: ১৬ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

ময়মনসিংহ জেলা আইনজীবী সমিতির আসন্ন নির্বাচনে একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটেছে। রিটার্নিং কর্মকর্তা নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী হিসেবে চিহ্নিত করে মোট ১৬ জন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করেছেন। গত বুধবার যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে এই নোটিশ প্রকাশ করা হয়, যা সন্ধ্যার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার জন্ম দিয়েছে।

প্রার্থিতা বাতিলের তালিকা ও রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা

মনোনয়নপত্র বাতিলের তালিকায় সভাপতি পদে বদর উদ্দিন আহমেদ, সহসভাপতি পদের দিদারুল ইসলাম, এ কে এম কামাল হোসেন খান, মিজানুর রহমান তালুকদার, সাধারণ সম্পাদক পদের এমদাদুল হক, সহসম্পাদক পদের সাইফুল ইসলাম, কামরুল ইসলাম, ছাহবিয়া হক (কানিজ), অডিটর পদের ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন), সদস্য পদের এ কে এম মুনমুন আহমেদ (সেলিম), রফিকুল ইসলাম ফকির, সাবিহা সুলতানা (জেরিন), এম কামরুল হাসান সরকার, ফুয়াদ হাসান (নিউটন), আব্দুল্লাহ আল নাঈম ও তানিয়া আক্তার (রেশমী) অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন।

স্থানীয় কয়েকজন আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বাতিলকৃত প্রার্থীদের মধ্যে অনেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, সভাপতি পদের বদর উদ্দিন আহমেদ জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি, সাধারণ সম্পাদক পদের এমদাদুল হক ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক, অডিটর পদের ইসতিয়াক আহমেদ (ইমন) জেলা ছাত্রলীগের সাবেক উপপ্রচার ও দপ্তর সম্পাদক এবং সদস্য পদের ফুয়াদ হাসান (নিউটন) ত্রিশাল পৌর যুবলীগের সাধারণ সম্পাদকের পদে রয়েছেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রতিবাদ ও আইনজীবীদের প্রতিক্রিয়া

সহসম্পাদক পদে প্রার্থী সাইফুল ইসলাম দাবি করেন যে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি বলেন, 'স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছিলাম এবং কোনো প্যানেল থেকে প্রার্থী হইনি। আমি সক্রিয়ভাবে রাজনীতি করার সুযোগ পাইনি। যখন ছাত্রলীগ বা যুবলীগের রাজনীতি করার বয়স ছিল, তখন আমি দেশে ছিলাম না এবং পড়ালেখা করেছি কলকাতার বিশ্ববিদ্যালয়ে। তবে আমি দেশে ফেরার পর আওয়ামী লীগের প্যানেল থেকে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে একবার নির্বাচিত হয়েছিলাম। কিন্তু আমার কোনো দলীয় পদ-পদবি নেই।'

সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থিতা বাতিল হওয়া এমদাদুল হক বলেন, 'অগণতান্ত্রিকভাবে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। গঠনতন্ত্রবহির্ভূত একটি বাক্য—নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না নোটিশে উল্লেখ করা হয়। আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সদস্য হওয়ার পর যে কেউ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারেন। যাদের বাতিল করা হয়েছে, তাদের অনেকে নতুন এবং কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নেই। আমাদের সঙ্গে সাধারণ আইনজীবী পরিষদের ব্যানারে জাসদ, বাসদ, কমিউনিস্ট পার্টি, গণফোরাম, তরিকত ফেডারেশন, জাতীয় পার্টি রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে বৃহস্পতিবার আমাদের জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বসে পরবর্তী করণীয় ঠিক করা হবে।'

নির্বাচনের তফসিল ও গঠনতন্ত্রের প্রাসঙ্গিকতা

১২ এপ্রিল জেলা আইনজীবী সমিতির তফসিল ঘোষণা করা হয়। এতে বলা হয়, আইনজীবী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৩২(১) ধারা মোতাবেক কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন ২০২৬-২৭ গোপন ব্যালটে তফসিল অনুযায়ী অনুষ্ঠিত হবে। যদিও গঠনতন্ত্রের ৩২(৬) ধারা মোতাবেক ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠানের বাধ্যবাদকতা ছিল, কিন্তু বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সব পেশাজীবী সংগঠনের নির্বাচন ১২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয়। এর ফলে সমিতির নির্বাচন গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সঠিক সময়ে অনুষ্ঠান করা সম্ভব হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সাধারণ সভার অনুমোদনক্রমে আহ্বায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক ২৩ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত একটানা ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তফসিল অনুযায়ী ১৩ এপ্রিল মনোনয়ন দাখিল, ১৫ এপ্রিল যাচাই-বাছাই, ১৬ এপ্রিল প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিন ধার্য করা হয়। তফসিলে তারকাচিহ্ন দিয়ে উল্লেখ করা হয়, 'নিষিদ্ধ ঘোষিত কোনো সংগঠন বা ফ্যাসিস্টদের সহযোগী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে পারবেন না।'

রিটার্নিং কর্মকর্তার অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা আব্দুল বারির বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বৃহস্পতিবার বেলা ১টার পর তাঁর চেম্বারে গিয়ে কথা বলতে বলেন। প্রার্থিতা বাতিলের বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি। এ বিষয়ে জানতে জেলা আইনজীবী সমিতির সদস্যসচিব সৈয়দ সালাউদ্দিন আহমেদ মুঠোফোনে ফোন করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।

এই ঘটনা ময়মনসিংহের আইনজীবী সম্প্রদায়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ভবিষ্যৎ নির্বাচনী প্রক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রার্থিতা বাতিলকৃতরা আইনি পদক্ষেপ নিতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে, যা স্থানীয় রাজনৈতিক ও পেশাগত পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে।