বিএনপি কর্মী হত্যা মামলায় ডিজিএফআইয়ের সাবেক কর্মকর্তার ফের তিন দিনের রিমান্ড আদেশ
বিএনপি কর্মী মকবুল হোসেন হত্যার অভিযোগে রাজধানীর পল্টন মডেল থানায় করা মামলায় গ্রেফতার ডিজিএফআইয়ের সাবেক বহিস্কৃত কর্মকর্তা মো. আফজাল নাছেরের ফের তিন দিনের রিমান্ড আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকালে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জামসেদ আলমের আদালত এ আদেশ প্রদান করেন।
রিমান্ড আবেদন ও আদালতের সিদ্ধান্ত
চার দফায় মোট ১৫ দিনের রিমান্ড শেষে আসামিকে আদালতে হাজির করে পুনরায় পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গোয়েন্দা মতিঝিল বিভাগের স্পেশাল অপারেশন টিমের উপপরিদর্শক মো. তোফাজ্জল হোসেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, আসামি স্ব-প্রণোদিত হয়ে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে বিগত সরকারকে নানাভাবে সহযোগিতা করেছেন।
তদন্ত কর্মকর্তার দাবি অনুযায়ী, তিনি এ মামলার ঘটনা সংঘটনে নেপথ্যে থেকে রাজনৈতিকভাবে বিরোধী পক্ষকে দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এটি একটি রাজনৈতিক হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তাধীন রয়েছে এবং এ ঘটনায় আসামির সম্পৃক্ততার তথ্যও পাওয়া গেছে। তাই তাকে পুলিশ হেফাজতে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করার জন্য পুনরায় পাঁচ দিনের একান্ত প্রয়োজন ছিল।
আসামি পক্ষের আপত্তি ও আদালতের রায়
এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল ও জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মো. আজিজুল হক দিদার এর বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির তিন দিনের রিমান্ড আবেদন মঞ্জুর করেছেন, যা তদন্তের অগ্রগতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।
গ্রেফতার ও পূর্ববর্তী রিমান্ড
উল্লেখ্য, গত ৩০ মার্চ ভোরে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএসের ১২ নম্বর সড়কের ৮৬৪ নম্বর বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এরপর আসামিকে চার দফায় মোট ১৫ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছে, যা এখন নতুন আদেশের মাধ্যমে আরও তিন দিন বাড়ানো হলো।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
মামলার অভিযোগে বলা হয়, ২০২২ সালের ১০ ডিসেম্বর একদফা দাবি আদায়ের কর্মসূচি ঘোষণা করে বিএনপি। এর আগে ৭ ডিসেম্বর ডিবি পুলিশের হারুন অর রশীদ, মেহেদী হাসান ও বিপ্লব কুমার বিএনপির নয়াপল্টন কার্যালয়ে অভিযান চালায়। এ সময় কার্যালয়ে ভাঙচুর চালানো হয় এবং কার্যালয়ের পাশে থাকা কয়েক হাজার নেতাকর্মীর ওপরও হামলা চালানো হয়।
এতে মকবুল হোসেন নামে এক কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। এ ঘটনায় গত ৩০ সেপ্টেম্বর মাহফুজুর রহমান বাদী হয়ে শেখ হাসিনাসহ ২৫৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন, যা এখনও তদন্তাধীন রয়েছে এবং নতুন রিমান্ড আদেশ তদন্তের গতি বাড়াতে সাহায্য করতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।



