সাবেক মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদকে নতুন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখিয়েছে আদালত
ঢাকার যাত্রাবাড়ী থানায় দায়ের করা একটি হত্যা মামলায় সাবেক সমাজকল্যাণমন্ত্রী মো. নুরুজ্জামান আহমেদকে (৭০) আদালত গ্রেফতার দেখিয়েছেন। সোমবার (১৩ এপ্রিল ২০২৬) পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি ও গ্রেফতারের কারণ
গ্রেফতার দেখানোর আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের দিকে যাত্রাবাড়ী থানার শনির আখড়া গোবিন্দপুর বাজারসংলগ্ন আন্ডারপাস সেতুর নিচে জুবাইদ ইসলাম আসামিদের গুলিতে নিহত হন। এই মামলার তদন্তে প্রাপ্ত সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে চিহ্নিত হন মো. নুরুজ্জামান আহমেদ।
আদালতের আদেশে বলা হয়েছে, পুলিশের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে যে নুরুজ্জামান আহমেদ এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকতে পারেন। তাই তাকে গ্রেফতার দেখানোর জন্য আবেদন করা হয়েছিল, যা আদালত মঞ্জুর করেছেন।
পূর্বের গ্রেফতার ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে আওয়ামী সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর রাত নয়টার দিকে রংপুর নগরের জুম্মাপাড়া পোস্ট অফিসের গলিতে তার ছোট ভাই ওয়াহেদুজ্জামানের বাড়ি থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন।
এই নতুন হত্যা মামলায় গ্রেফতার দেখানো হলে তার বিরুদ্ধে মামলার সংখ্যা বাড়লেও, তিনি ইতিমধ্যেই কারাগারে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, "এই মামলায় গ্রেফতার দেখানো একটি প্রক্রিয়াগত পদক্ষেপ, যা আদালতের নির্দেশে সম্পন্ন হয়েছে।"
আদালতের ভূমিকা ও পরবর্তী পদক্ষেপ
মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত পুলিশের আবেদনটি যাচাই-বাছাই করে গ্রেফতারের আদেশ দিয়েছেন। আদালতের সূত্রে জানা যায়, এই মামলায় আরও তদন্ত চলছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে।
এই ঘটনাটি রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই গ্রেফতার দেখানো আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।



