চাঁদার জন্য নৃশংস হত্যা: প্রধান আসামি গ্রেফতার
নোয়াখালী সদর উপজেলায় চাঁদা না পেয়ে ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ মো. আবদুল হাইকে পিটিয়ে ও পোল থেকে খালে ফেলে হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি মো. লিটন চৌধুরীকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। শনিবার (১১ এপ্রিল) রাত ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামির পরিচয়
গ্রেফতারকৃত লিটন চৌধুরী নোয়াখালী সদর উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের চৌধুরী ব্যাপারীর ছেলে এবং নোয়ান্নই ইউনিয়ন যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব। সুধারাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তৌহিদুল ইসলাম গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত ঘটনা
গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার নোয়ান্নই ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ মধ্য বাজারে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বৃদ্ধ আবদুল হাই নিজের জমিতে নির্মাণকাজ শুরু করলে লিটন চৌধুরীর নেতৃত্বে ৮-১০ জনের একটি দল তার কাছে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকার করায় লিটন ও তার সহযোগীরা আবদুল হাই এবং তার দুই ছেলের ওপর হামলা চালায়।
হামলাকারীরা বৃদ্ধ আবদুল হাইকে বেধড়ক মারধরের পর একটি পোল (সেতু) থেকে ধাক্কা দিয়ে নিচে খালে ফেলে দেয়। এতে তিনি মাথায় ও শরীরে গুরুতর আঘাত পান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে তার মৃত্যু হয়।
মামলা ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. সুমন বাদী হয়ে লিটন চৌধুরীসহ ছয়জনকে এজাহারনামীয় আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। ঘটনার পর এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেলেও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুলিশ তাকে রায়পুর থেকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এদিকে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে শনিবার সকালেই কেন্দ্রীয় যুবদল লিটন চৌধুরীকে সংগঠন থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করে। পুলিশ জানায়, মামলার বাকি আসামিদের ধরতেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



