ভুয়া পরিচয়পত্রে গুলশানের বাড়ি দখল চেষ্টা: আসামি হানিফ আদালতে দোষ স্বীকার
ভুয়া পরিচয়ে বাড়ি দখল চেষ্টা: আসামি দোষ স্বীকার

ভুয়া পরিচয়পত্রে গুলশানের বাড়ি দখল চেষ্টা: আসামি আদালতে দোষ স্বীকার

ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করে ঢাকার গুলশানে অন্যের বাড়ি ও সম্পত্তি দখলের চেষ্টার মামলায় আসামি হানিফ হাওলাদার, যিনি আব্দুল আজিজ খান নামে পরিচিত, আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। শনিবার (১১ এপ্রিল) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মঞ্জুরুল ইসলামের আদালতে তিনি স্বেচ্ছায় এই জবানবন্দি প্রদান করেন।

আদালতে জবানবন্দি ও কারাগারে প্রেরণ

গুলশান থানা পুলিশ আসামি হানিফ হাওলাদারকে আদালতে হাজির করার পর, তিনি স্বেচ্ছায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দিতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গুলশান থানার উপপরিদর্শক মাহাবুব হোসাইন আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড করার জন্য আবেদন করেন। বিচারক আবেদনটি মঞ্জুর করে জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরবর্তীতে আসামিকে কারাগারে প্রেরণের আদেশ দেন।

জবানবন্দিতে বিস্তারিত অপরাধের স্বীকারোক্তি

আদালত ও পুলিশ সূত্র থেকে জানা গেছে, আসামি হানিফ হাওলাদার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছেন যে তার প্রকৃত নাম হানিফ হাওলাদার। তিনি গুলশান-১ এলাকায় অবস্থিত ১৫ নম্বর বাড়িটি দখল করার উদ্দেশ্যে আব্দুল আজিজ খানের নামে একটি ভুয়া জাতীয় পরিচয়পত্র তৈরি করেন। এরপর, গত ১৯ মার্চ তারিখে, তিনি তার সহযোগী আসামিদের নিয়ে ওই বাড়িতে হামলা চালান।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেপ্তার ও পূর্বের ঘটনাবলী

এর আগে, শুক্রবার (১০ এপ্রিল) মধ্যরাতে পুলিশ হানিফ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করে। ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে বাড়ি দখলের চেষ্টা ছাড়াও, তার বিরুদ্ধে একাধিক প্রতারণার মামলা রয়েছে। একই মামলায় চক্রের আরেক সদস্য মো. ইউসুফকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল, যাকে আদালত দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার পটভূমি ও সম্পত্তির বিবরণ

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গুলশান-১-এর ১২৭ নম্বর রোডে অবস্থিত ১৯ কাঠা ১৩ ছটাক জায়গার ওপর নির্মিত বাড়িটি ২০১৩ সালের শেষের দিকে আব্দুল আজিজ খান নামে এক ব্যক্তির কাছ থেকে মেসার্স মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস ক্রয় করে। এই ভবনে প্রতিষ্ঠানটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাবাসসুম আরেফিন রহমান মুনের বোনসহ অন্যান্য স্বজনরা বসবাস করছিলেন।

হানিফ হাওলাদার নিজেকে ওই বাড়ির মালিক হিসেবে জাহির করে ভুয়া পরিচয়পত্র ও জাল কাগজপত্র তৈরি করেন। গত ১৯ মার্চ, ঈদের ছুটির সময়ে, তিনি তার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীসহ বাড়িতে হামলা চালিয়ে মালিকপক্ষের সদস্যদের মারধর করেন। এ সময় তারা সাড়ে ১০ লাখ টাকার স্বর্ণ ও নগদ দেড় লাখ টাকা লুট করে এবং ভবনের নির্মাণ কাজ চালানোর জন্য ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে।

মামলা দায়ের ও তদন্তের ফলাফল

এ ঘটনায় মুন ইন্টারন্যাশনাল প্রিন্টিং প্রেস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার আনোয়ার আলী গুলশান থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশের তদন্তে প্রকাশ পায় যে, সম্পত্তির প্রকৃত মালিক আব্দুল আজিজ খান অনেক আগেই মারা গেছেন। আসামি হানিফ হাওলাদারের প্রকৃত নাম মো. হানিফ হাওলাদার, যার বাবা মৃত আব্দুল গফুর হাওলাদার এবং মা মৃত হামিদা বেগম, এবং তার স্থায়ী ঠিকানা বরগুনার বেতাগীতে।

ঘটনার প্রতিক্রিয়া ও পদক্ষেপ

উল্লেখ্য, এই ঘটনায় একটি জাতীয় দৈনিকে পুলিশের মদদে বাড়ি দখল-সংক্রান্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এর ফলে, ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান জোনের তৎকালীন সহকারী কমিশনার আলী আহমেদ মাসুদকে তার পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা ঘটনার গুরুত্ব ও প্রভাবকে আরও বাড়িয়ে তোলে।