শাশুড়ি হত্যার ডাকাতির নাটক সাজিয়েও ধরা পড়লেন পুত্রবধূ আরিফা
শাশুড়ি হত্যার ডাকাতির নাটক সাজিয়েও ধরা পড়লেন পুত্রবধূ

শাশুড়ি হত্যার ডাকাতির নাটক সাজিয়েও ধরা পড়লেন পুত্রবধূ আরিফা

শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজিয়েও শেষ রক্ষা হলো না একমাত্র পুত্রবধূ আরিফা আক্তারের (২৬)। সন্দেহজনকভাবে আটকের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি শাশুড়ি আছমা আক্তারকে (৫৫) হত্যার কথা স্বীকার করেন, সাথে আরও দুই সহযোগীর নামও উল্লেখ করেন।

আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে পুলিশ আছমা হত্যার তিন আসামিকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়। জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আনিছুর রহমানের নিজ বাড়িতে শাশুড়িকে শ্বাসরোধে হত্যার পর ডাকাতির নাটক সাজানো হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

গ্রেফতারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেফতাররা হলেন- নিহতের পুত্রবধূ আরিফা আক্তার (২৬), পিরুজালী আলিমপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে উজ্জ্বল হোসেন (৪৬) ও একই গ্রামের আলম মিয়ার স্ত্রী শাহনাজ বেগম (৪৫)।

মামলার প্রধান আসামি আরিফা আক্তারের স্বীকারোক্তিতে তার ঘর থেকে লুট করা টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার উদ্ধার করে পুলিশ।

তদন্তের বিস্তারিত বিবরণ

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জয়দেবপুর থানার এসআই সুজন রঞ্জন তালুকদার বলেন, মঙ্গলবার দিবাগত রাত ২টার দিকে গাজীপুর সদর উপজেলার পিরুজালী ইউনিয়নের পিরুজালী (মধ্যপাড়া) গ্রামের আছমা আক্তারকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ ওঠে। রাতের ওই সময়ে বাড়িতে কোনও পুরুষ লোক ছিল না।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। নিহতের একমাত্র ছেলে নাজমুল সাকিবের স্ত্রী আরিফা আক্তারকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তার কথাবার্তা ও আচরণে সন্দেহ হয়। পরে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করা হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এক পর্যায়ে আরিফা আক্তার তার শাশুড়িকে হত্যার কথা স্বীকার করে এবং এ ঘটনার সঙ্গে তাকে আরও দুই জন সহযোগিতা করেছে বলে জানায়। পরে পুলিশ বুধবার রাতেই ঘটনায় জড়িত অপর দুই আসামি উজ্জ্বল হোসেন ও শাহনাজ বেগমকে গ্রেফতার করে।

মামলার উদ্দেশ্য ও পুলিশের বক্তব্য

জয়দেবপুর থানার পরিদর্শক (অপারেশন) নয়ন কুমার কর বলেন, আছমা আক্তারের স্বামী আনিছুর রহমান তিন জনকে আসামি করে মামলা করেছে। নগদ টাকা এবং তিন ভরি স্বর্ণালংকার লুটের উদ্দেশেই তারা পরিকল্পিতভাবে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটিয়েছে।

এই ঘটনায় পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেফতার প্রশংসনীয়, যা অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে সহায়তা করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এই নৃশংস ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন এবং আইনের কঠোর প্রয়োগ কামনা করেছেন।