শরিফ ওসমান হত্যা মামলার প্রধান আসামির ১০ বছরের কারাদণ্ড
ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার প্রধান আসামি ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে ১০ বছরের কারাদণ্ডের রায় ঘোষণা করেছে আদালত। বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মাহমুদুল মোহসিন এই রায় প্রদান করেন।
আদালতের রায় ও আসামির অবস্থান
রবিবার যুক্তিতর্ক শেষে আদালত রায়ের তারিখ নির্ধারণ করেছিলেন। তবে ফয়সাল করিম বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং তার গ্রেপ্তারের জন্য ওয়ারেন্ট জারি করা হয়েছে। পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকি নিশ্চিত করেছেন যে, এই মামলায় সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারত, কিন্তু আদালত ১০ বছরের সাজা দিয়েছেন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, রায়ের কপি পাওয়ার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করা হবে। আদালতের এই রায়ে আসামির বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনের ধারা প্রয়োগ করা হয়েছে, যা দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৭ নভেম্বর র্যাব-২ আদাবারের বাইতুল আমান হাউজিং সোসাইটির একটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালায়। ফয়সাল করিম পালানোর চেষ্টা করার সময় গ্রেপ্তার হন। তার বাসস্থান তল্লাশির সময় র্যাব একটি বিদেশি পিস্তল ও চারটি কার্তুজ উদ্ধার করে।
পরের দিন আদাবার পুলিশ র্যাব হাবিলদার মোশিউর রহমানের দায়ের করা মামলায় ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়ের করে। মামলায় অভিযোগ করা হয় যে, ফয়সাল করিম এলাকার পরিচিত সশস্ত্র অপরাধী ছিলেন এবং তিনি চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন।
তিনি সংঘবদ্ধ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড যেমন চাঁদাবাজি, হত্যা, মারধর ও জমি দখলের নেতৃত্ব দিতেন এবং অপরাধ সংঘটনের জন্য অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র রাখতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়া
তদন্ত শেষে আদাবার পুলিশের উপ-পরিদর্শক জাহিদ হাসান গত বছরের ২৮ মার্চ আদালতে ফয়সাল করিমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। বিচার কার্যক্রম চলাকালীন আদালত ১৪ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
ফয়সাল করিম গত বছর ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত এই মামলায় জামিনে ছিলেন। শরিফ ওসমান হাদি হত্যার পর তিনি আত্মগোপনে চলে যান এবং প্রকাশ্যে দেখা যাননি। গত মাসে তিনি ভারতে গ্রেপ্তার হন, যা এই মামলার একটি উল্লেখযোগ্য ঘটনা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।
আদালতের এই রায় অস্ত্র আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আসামির গ্রেপ্তার ও শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।



