রংপুরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সায়েদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড
আবু সায়েদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

রংপুরের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সায়েদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তার মৃত্যুদণ্ড

মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সায়েদ হত্যা মামলায় দুই পুলিশ কর্মকর্তাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। সাবেক সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এই মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছেন। উভয়ই বর্তমানে কারাগারে আটক রয়েছেন।

ট্রাইব্যুনালের রায় ঘোষণা

বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গত বৃহস্পতিবার এই রায় ঘোষণা করে। ট্রাইব্যুনালের অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিচারপতি মো. মঞ্জুরুল বাশিদ এবং বিচারপতি নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবির। এই মামলাটি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত, যেখানে আবু সায়েদ প্রথম শহীদ হিসেবে পরিচিত।

অন্যান্য আসামিদের শাস্তি

এই মামলায় মোট ৩০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামি ছাড়াও, বাকি ২৮ জন আসামির মধ্যে বেশ কয়েকজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। এছাড়া, অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। ট্রাইব্যুনালের রায়ে অপরাধের ভয়াবহতা এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আবু সায়েদের হত্যাকাণ্ড ২০১৮ সালের জুলাই মাসে রংপুরে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের সময় ঘটে। তিনি বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সক্রিয় শিক্ষার্থী ছিলেন এবং সরকারবিরোধী বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নিহত হন। এই ঘটনাটি দেশব্যাপী ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল এবং মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তীব্র নিন্দার মুখে পড়ে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর এই রায়কে একটি ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ায় একটি মাইলফলক স্থাপন করেছে। আইনজীবী এবং মানবাধিকার কর্মীরা এই রায়কে স্বাগত জানিয়েছেন, যদিও কিছু মহল থেকে আপিলের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘদিন ধরে চলছিল এবং শেষ পর্যন্ত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।