টোনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়: তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ মিলানোর নির্দেশ
টোনু হত্যা মামলায় তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ মিলানোর নির্দেশ

টোনু হত্যা মামলায় নতুন মোড়: তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ মিলানোর আদালতের নির্দেশ

কুমিল্লার একটি আদালত সোমবার সোহাগী জাহান টোনুর পোশাক থেকে পূর্বে সংগৃহীত ডিএনএ প্রোফাইলের সঙ্গে তিন সাবেক সেনাসদস্যের ডিএনএ মিলানোর জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে। ২০১৬ সালে নিহত কুমিল্লা সরকারি ভিক্টোরিয়া কলেজের এই ছাত্রীর হত্যা মামলায় তদন্তে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো এই আদেশের মাধ্যমে।

আদালতের নির্দেশনা ও তদন্ত অফিসারের আবেদন

কুমিল্লার প্রধান জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. মোমিনুল হক এই আদেশ দেন। পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর তারিকুল ইসলাম আদালতে হাজির হয়ে ডিএনএ ক্রস-ম্যাচিং করার অনুমতি চাইলে আদালত এই নির্দেশনা জারি করেন। তারিকুল ইসলাম টোনু হত্যা মামলার বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

তদন্ত কর্মকর্তার বক্তব্য অনুযায়ী, ঘটনার পরপরই টোনুর ব্যক্তিগত পোশাক থেকে ডিএনএ প্রোফাইল সংগ্রহ করা হয়েছিল। তবে সেই সময়ে এই নমুনাগুলো কোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তির সঙ্গে মিলানো হয়নি। তারিকুল ইসলাম বলেন, "আদালত এখন তিন ব্যক্তির ডিএনএ প্রোফাইল পূর্বে সংগৃহীত নমুনার সঙ্গে ক্রস-ম্যাচ করার নির্দেশ দিয়েছে।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে এই তিন সন্দেহভাজন ব্যক্তি সাবেক সেনাসদস্য, যারা এখন অবসরপ্রাপ্ত। তবে সন্দেহভাজনদের পরিচয় গোপন রাখা হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অগ্রগতি প্রতিবেদন ও শুনানির তারিখ

সোমবার সকালে পিবিআই কর্মকর্তা আদালতে একটি অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দেন। আদালত তাকে পরবর্তী শুনানির তারিখে একটি হালনাগাদ প্রতিবেদন পেশ করারও নির্দেশ দিয়েছে। এই আদেশ মামলার তদন্তে গতি আনার প্রত্যাশা জাগিয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

টোনু হত্যার পটভূমি ও তদন্তের ইতিহাস

ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী টোনু ২০১৬ সালের ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাসের ভিতরে প্রাইভেট টিউশনে যাওয়ার পর নিখোঁজ হন। পরে তার মরদেহ কাছাকাছি একটি বনাঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় তার বাবা ইয়ার হোসেন কুমিল্লা কোতয়ালী মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একাধিক তদন্ত সংস্থার হাতে ঘুরেছে। স্থানীয় পুলিশ থেকে ডিটেকটিভ ব্রাঞ্চ, তারপর অপরাধ তদন্ত বিভাগ এবং পরবর্তীতে পিবিআই-এর কাছে মামলার দায়িত্ব হস্তান্তরিত হয়েছে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোনো সাফল্য অর্জিত হয়নি। পরিবারের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরে তদন্তে স্বচ্ছতার অভাবের অভিযোগ করে আসছেন। তারা দাবি করেন যে পূর্বে ডিএনএ পরীক্ষা করা হলেও তার ফলাফল কখনও প্রকাশ করা হয়নি।

তারিকুল ইসলাম এই মামলার ষষ্ঠ তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে এই নতুন ডিএনএ মিলানোর প্রক্রিয়া মামলার নিষ্পত্তির দিকে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। আদালতের এই নির্দেশনা টোনুর পরিবার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা জাগিয়েছে।