কেরানীগঞ্জ গ্যাসলাইটার কারখানা অগ্নিকাণ্ড মামলায় আসামি ইমান উল্লাহর তিন দিনের রিমান্ড আদেশ
গ্যাসলাইটার কারখানা আগুন মামলায় আসামির তিন দিন রিমান্ড

কেরানীগঞ্জ গ্যাসলাইটার কারখানা অগ্নিকাণ্ড: আসামি ইমান উল্লাহর তিন দিনের রিমান্ড আদেশ

ঢাকার কেরানীগঞ্জের কদমতলীতে গ্যাসলাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রেফতার আসামি মো. ইমান উল্লাহ ওরফে মাস্তানকে (৫০) তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। সোমবার (৬ এপ্রিল) দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকা সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তানভীর আহমেদের আদালত এই রিমান্ডের আদেশ জারি করেন।

গ্রেফতার ও রিমান্ড আবেদনের পটভূমি

গত ৫ এপ্রিল আসামি মো. ইমান উল্লাহকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের কদমতলী এলাকা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওইদিনই তাকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. রফিকুল ইসলাম। এরপর বিকালে শুনানি শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজকের তারিখ নির্ধারণ করা হয়।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ৪ এপ্রিল দুপুরে কেরানীগঞ্জের কদমতলী গোলচত্বর এলাকার একটি গ্যাস লাইটার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, কারখানার ভেতরে মজুত করা দাহ্য পদার্থ বা গ্যাস লাইটারের কাঁচামাল থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত ছয় জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে এবং বেশ কয়েকজন দগ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিটের প্রায় দেড় ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মামলার অভিযোগ ও রিমান্ডের যৌক্তিকতা

আবেদনে আরও বলা হয়, আসামি ইমান উল্লাহ এই মামলার ঘটনার মূল হোতা হিসেবে চিহ্নিত। তার নেতৃত্বে অজ্ঞাত আসামিদের সহায়তায় অবৈধভাবে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিটি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কারণেই ঘটনার সূত্রপাত ঘটেছে। এর ফলশ্রুতিতে বহু লোক মারা গেছেন এবং গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন, যাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে বিবেচিত হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশের দাবি, এই আসামিকে রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপক ও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদসহ অভিযান চালালে মূল রহস্য উদঘাটন সম্ভব হবে। এছাড়াও তার সহযোগী এজাহারনামীয় অপরাপর পলাতক আসামিদের এবং অজ্ঞাত আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহসহ গ্রেফতারের সম্ভাবনা রয়েছে। তাই এই আসামির ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।

আদালতের শুনানি ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত

এদিকে, আসামি পক্ষের আইনজীবীরা তার রিমান্ড বাতিল করে জামিনের প্রার্থনা করেন। তবে রাষ্ট্রপক্ষ এই আবেদনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামি মো. ইমান উল্লাহর তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন, যা আবেদনকৃত ১০ দিনের তুলনায় কম সময়ের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

মামলার বিস্তারিত অভিযোগ

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৪ এপ্রিল ঢাকার দক্ষিণ কেরাণীগঞ্জ থানার কদমতলী এলাকায় আমবাগিচা ডিবজলের গলিতে অবস্থিত মেসার্স এসার গ্যাস প্রো ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগে। এতে ছয় জনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ঘটনার বিষয়ে গোপনে ও প্রকাশ্যে প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, আসামিদের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় তারা জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে ৮ থেকে ১০ বছর ধরে আনুমানিক ৫০-৬০ জন শিশু, নারী ও পুরুষ শ্রমিক নিয়ে ফ্যাক্টরিটি পরিচালনা করে আসছে।

একাধিক সময়ে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহীনি, সেনাবাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ অভিযান চালালে এবং ফ্যাক্টারি বন্ধ ও সিলগালা করা হলেও অজ্ঞাত পাঁচ থেকে সাত জন আসামির প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পুনরায় ফ্যাক্টরির সামনের গেটে তালাবদ্ধ করে ভেতরে লুকিয়ে লুকিয়ে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে কার্যক্রম চলমান রাখা হয়। এর ফলে বহু মানুষ অগ্নিকাণ্ডের শিকার হয়ে মৃত্যুবরণ করেন।

উল্লেখিত আসামিরা এলাকায় পেশী শক্তির মাধ্যমে দেশের প্রচলিত আইন অমান্য করে অধিক গুরুত্বপূর্ণ জনবহুল এলাকায় অবৈধভাবে বিপদজনক দাহ্য পদার্থ দিয়ে ফ্যাক্টরিতে অবৈধভাবে শিশু শ্রমিকদের নিয়োগ দিচ্ছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলায় অন্যান্য আসামি

এই ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক মো. জুয়েল রানা ইমান উল্লাহসহ তিন জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অপর দুই আসামি হলেন– কারখানাটির মালিক মো. আকরাম উল্লাহ আকরাম এবং তার ছেলে আহনাফ আকিফ আকরাম। তাদের বিষয়ে এখনও কোনো গ্রেফতার বা রিমান্ডের তথ্য পাওয়া যায়নি, তবে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।