ভাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার: জমি বিরোধের জেরে স্বামীর নির্মমতা
ভাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার: জমি বিরোধের জেরে

ভাঙ্গায় স্ত্রী হত্যার দায় স্বীকার: জমি বিরোধের জেরে স্বামীর নির্মমতা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় স্ত্রী হত্যার মর্মান্তিক ঘটনায় স্বামী আনিসুর রহমান আদালতে দায় স্বীকার করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফরিদপুর আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে তিনি এই হত্যাকাণ্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। ভাঙ্গা থানার পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আজ শুক্রবার এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

ঘটনার সূত্রপাত ও লাশ উদ্ধার

গত ১৮ ফেব্রুয়ারি সকালে ভাঙ্গা উপজেলার ব্রাহ্মণকান্দা গ্রামসংলগ্ন আড়িয়াল খাঁ নদের পাশে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেন থেকে এক অজ্ঞাতনামা নারীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই দিন সন্ধ্যায় লাশটির পরিচয় শনাক্ত করেন নিহতের ছেলে সাইফুর রহমান। নিহত হাসিনা পারভিন (৪৭) নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। তিনি সেখানকার একটি আবাসিক এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

গ্রেপ্তার ও তদন্তের অগ্রগতি

লাশ শনাক্তের পর পুলিশ তদন্তে নামে এবং ১ এপ্রিল নিহত নারীর স্বামী আনিসুর রহমান (৪০) গ্রেপ্তার করে। আসামি সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার বাসিন্দা এবং তিনি ঢাকার রায়েরবাগ এলাকায় বসবাস করতেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ভাঙ্গা থানার উপপরিদর্শক মোশারফ হোসেন জানান, নিহতের ছেলে সাইফুর রহমান (২৫) মামলা করার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার পেছনের কারণ ও স্বীকারোক্তি

আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, হত্যার পেছনে মূল কারণ ছিল জমি সংক্রান্ত বিরোধ। হাসিনার প্রথম স্বামী আজিজুর রহমান ২০০৫ সালে মারা যান। এরপর তিনি তিন ছেলেকে নিয়ে বসবাস করতেন। পরে তিনি আনিসুর রহমানকে বিয়ে করেন। হাসিনার চাচা একটি জমি তাঁকে দান করেন, যা তিনি পরে স্বামী আনিসুরকে দান করেন। আনিসুর ওই জমি বিক্রি করে দিলে সম্পর্কের অবনতি ঘটে। হাসিনা জমি আবার নিজের নামে নিতে আদালতে মামলা করলে স্বামী ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আনিসুর রহমান তাঁর স্বীকারোক্তিতে উল্লেখ করেন, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি হাসিনাকে নিয়ে ঘুরতে বের হন। তাঁরা একসঙ্গে মোটরসাইকেলে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়ের পদ্মা সেতু পার হয়ে ভাঙ্গার পুলিয়া এলাকায় পৌঁছান। সেখানে কথা-কাটাকাটির এক পর্যায়ে হাসিনার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে তাঁকে হত্যা করেন। পরে লাশটি এক্সপ্রেসওয়ের সার্ভিস লেনের পাশে আড়িয়াল খাঁ নদের তীরে ফেলে দিয়ে মোটরসাইকেল নিয়ে ঢাকা ফিরে যান।

আদালতের কার্যক্রম ও বর্তমান অবস্থা

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান জানান, আদালতের নির্দেশে আসামি আনিসুর রহমানকে বৃহস্পতিবার রাতে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। পুলিশের পক্ষ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ ও বিচারিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা প্রশংসিত হচ্ছে। সম্প্রতি জমি বিরোধ ও পারিবারিক সংঘাতের কারণে হত্যার মতো ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের জন্য উদ্বেগের বিষয় বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।