হাদি হত্যা মামলায় আসামি বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ জারি
শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার 'পরিকল্পনাকারী' হিসেবে চিহ্নিত মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) পাসপোর্ট ব্লকের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। সিআইডির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার ঢাকার মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ এ আদেশ জারি করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেন আদেশের তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
মানি লন্ডারিং মামলায় সিআইডির আবেদন
রাজধানীর পল্লবী থানায় গত ৫ মার্চ মানি লন্ডারিং আইনে তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. সোহেল রানা এ মামলায় তাইজুলের পাসপোর্ট ব্লকের জন্য আবেদন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, আসামি তাইজুল ইসলাম চৌধুরী ওরফে বাপ্পী অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন, দলিল-দস্তাবেজ জালিয়াতি, প্রতারণা, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন পন্থায় প্রায় ২ কোটি ৫২ লাখ টাকা মানি লন্ডারিং–সংক্রান্ত অপরাধের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
তিনি বর্তমানে পলাতক অবস্থায় রয়েছেন এবং গ্রেপ্তার এড়াতে যেকোনো সময় বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁর বিদেশ গমন রোধে পাসপোর্ট ব্লক এবং গ্রেপ্তারের জন্য ইমিগ্রেশন পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া প্রয়োজন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
হাদি হত্যা মামলার পটভূমি
শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যা মামলার তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মোট ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ডিবি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জানান, শরিফ ওসমান বিন হাদি নতুন ধারার রাজনীতি শুরু করেছিলেন। সেই রাজনীতির কারণেই ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও মিরপুর এলাকার সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরীর (বাপ্পী) নির্দেশনা ও পরিকল্পনায় ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়।
এ ঘটনায় তাইজুল ইসলাম চৌধুরীকে প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা আদালতের সাম্প্রতিক পাসপোর্ট ব্লকের আদেশের পিছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। আদালতের এ সিদ্ধান্ত তদন্ত প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে সহায়তা করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



