হত্যা মামলার আসামি বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ দিলেন আদালত
হত্যা মামলার আসামি বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লক আদেশ

হত্যা মামলার আসামি বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ দিলেন আদালত

স্মার্ট ফ্যাশন ও চৌধুরী অ্যান্ড খান অটোব্রিকস মোরেলগঞ্জের স্বত্বাধিকারী এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যার পরিকল্পনাকারী হিসেবে গোয়েন্দা পুলিশের তদন্তে নাম আসা সাবেক কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ দিয়েছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজের আদালতে পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ জারি করা হয়।

আদালতের শুনানি ও আবেদনের বিবরণ

সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী মো. রিয়াজ হোসেনের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক মো. সোহেল রানা এই আবেদনটি উপস্থাপন করেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয় যে, তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পী অবৈধভাবে ইটভাটা স্থাপন, দলিল দস্তাবেজ জালকরণ, প্রতারণা, জালিয়াতি এবং চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি ৫১ লাখ টাকা মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অপরাধে জড়িত বলে তদন্তকালে তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে।

অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (সংশোধনী/২০১৫) এর ৪(২) ধারায় রাজধানীর পল্লবী থানায় গত ৫ মার্চ একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এজাহারনামায় উল্লেখিত অভিযুক্ত ব্যক্তি বর্তমানে পলাতক রয়েছেন এবং গ্রেফতার এড়ানোর জন্য যে কোনো সময় বিদেশে পলায়ন করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। মামলাটির সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে, অভিযুক্তের বিদেশ গমনাগমন রোধ ও গ্রেফতারে সহায়তার জন্য পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের বিশেষ পুলিশ সুপার (ইমিগ্রেশন প্রশাসন) বরাবর আদেশ দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

আদালতের সিদ্ধান্ত ও শুনানি প্রক্রিয়া

শুনানির সময় অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তফা সারোয়ার মুরাদ আবেদনের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। শুনানি শেষে আদালত আবেদনটি মঞ্জুর করে তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীর পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ দেন। এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তার বিদেশ যাত্রা বন্ধ করা হবে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হত্যা মামলার পটভূমি ও তদন্তের অগ্রগতি

প্রসঙ্গত, গত ১২ ডিসেম্বর শরীফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হন। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করা হয়, পরে রাতেই ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়, যেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।

এই হত্যা মামলার তদন্ত শেষে গত ৬ জানুয়ারি ডিবি পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ মোট ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তবে, মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরের নারাজির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত মামলাটি সিআইডিকে পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন। বর্তমান পাসপোর্ট ব্লকের আদেশ এই তদন্ত প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই ঘটনাটি অপরাধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আদালতের ভূমিকা এবং মানিলন্ডারিংসহ জটিল অপরাধের তদন্তে পুলিশের কার্যক্রমের দিকনির্দেশনা প্রদান করে। সামগ্রিকভাবে, এটি নাগরিক নিরাপত্তা ও বিচার ব্যবস্থার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার প্রচেষ্টার একটি অংশ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।