আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগে সিনিয়র সহকারী সচিবের বিরুদ্ধে শাস্তি
সরকারি কর্মকর্তা রুম্পা সিকদারের বিরুদ্ধে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের বাড়ি নির্মাণে অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বুধবার এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে।
অনিয়মের বিবরণ ও তদন্ত প্রক্রিয়া
রুম্পা সিকদার জুলাই ২০১৯ থেকে ডিসেম্বর ২০২২ পর্যন্ত ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তার দায়িত্বকালে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের অধীনে ৩০২টি বাড়ি নির্মাণের জন্য প্রায় ১.৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে চর সাতপাকিয়া এলাকায় ১২৮টি বাড়ি নির্মাণের পরিকল্পনা ছিল।
তবে, তার উত্তরসূরি ইউএনও নজরুল ইসলাম পরবর্তীতে সরেজমিন পরিদর্শন করে আবিষ্কার করেন যে নির্ধারিত ১২৮টি বাড়ির মধ্যে ৫৫টি বাড়ি নির্মাণ করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট প্রকল্প কর্মকর্তা পরে এই অর্থ পুনরুদ্ধার করে ব্যাংকে জমা দেন। তদন্তে প্রকাশ পায় যে রুম্পা সিকদার অনির্মিত বাড়িগুলোর বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে ব্যর্থ হয়েছেন এবং পূর্ণ পরিমাণ অর্থের চেক স্বাক্ষর করেছেন।
দায়িত্বে অবহেলা ও শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত
দাপ্তরিক তদন্তে আরও প্রমাণিত হয় যে তিনি নির্মাণ কাজের গুণমান নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগের ভিত্তিতে পরিচালিত দাপ্তরিক তদন্তে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয় এবং প্রশাসনিক দক্ষতার ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
অভিযোগ ও তদন্ত প্রতিবেদন পর্যালোচনার পর সরকার তার বিরুদ্ধে দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করার হালকা শাস্তি আরোপ করেছে। এই সিদ্ধান্তটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হয়েছে।
প্রকল্প তদারকিতে প্রশাসনিক দায়িত্ব
এই ঘটনাটি সরকারি প্রকল্পের তদারকি ও বাস্তবায়নে প্রশাসনিক দায়িত্বের গুরুত্বকে সামনে এনেছে। আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পটি গৃহহীন ও ভূমিহীন পরিবারদের জন্য আবাসন সুবিধা প্রদানের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। তবে, প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম ও অবহেলা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এই ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ভবিষ্যতে অনুরূপ অনিয়ম রোধে আরও কঠোর নজরদারি ও তদারকি ব্যবস্থা জোরদার করার আহ্বানও জানানো হচ্ছে বিভিন্ন মহল থেকে।



