বিয়েবাড়িতে মাংস কম দেওয়ায় হত্যা: মূল আসামি গ্রেফতার
গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাঘোয়া ইউনিয়নের এক বিয়েবাড়িতে খাবারের প্লেটে মাংস কম দেওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মূল আসামি গোলজার রহমানকে র্যাব-১৩ গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) র্যাব-১৩ সিনিয়র সহকারী পরিচালক বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
২০২৫ সালের ২২ জুন গাইবান্ধা সদর উপজেলার ঘাগোয়া ইউপির হাজারীপাড়ায় ছায়দার আলীর বাড়িতে তার মেয়ের বিবাহ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে দুপুরের খাবারের সময় আমন্ত্রিত অতিথিরা সবাই যথেষ্ট পরিমাণে মাংস পান; কিন্তু বিয়েতে আসা পাত্রপক্ষের মনোয়ারা বেগম নামের একজনের খাবার প্লেটে মাংস কম হওয়ায় তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। একপর্যায়ে ওই মহিলা ভাত-মাংসসহ প্লেটটি ছায়দার আলীর মুখে ছুড়ে মারেন।
এ ঘটনার প্রতিবাদ করতে গেলে বরপক্ষের লোকজন লাঠিসোটা ও লোহার রড দিয়ে ছায়দার আলীকে বেধড়ক মারপিট করে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতাল ও পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন আহত ছায়দার আলীর মৃত্যু হয়।
মামলা ও গ্রেফতার প্রক্রিয়া
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে আল আমীন বাদী হয়ে ২৪ জুলাই গাইবান্ধা সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর থেকে অভিযুক্ত গোলজার রহমান পুলিশের নজর এড়িয়ে বিভিন্ন স্থানে পালিয়ে ছিলেন। বুধবার (১ এপ্রিল) গভীর রাতে র্যাব-১৩ সদস্যরা হত্যাকাণ্ডের ৬ মাস পর ঘাগোয়া ইউপির হাজারীপাড়া থেকে গোলজারকে গ্রেফতার করে পুলিশের হাতে সোপর্দ করে।
র্যাব-১৩ সূত্রে জানা গেছে, গ্রেফতারকৃত আসামি গোলজার রহমান হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগে তদন্তাধীন রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, এই ঘটনা সামাজিক অস্থিরতা ও ছোটখাটো বিষয়কে কেন্দ্র করে সহিংসতার উদাহরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
গাইবান্ধা সদর থানার কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তাকে আদালতে হাজির করা হবে। এই ঘটনায় অন্যান্য সন্দেহভাজনদের খুঁজে বের করতে পুলিশ ও র্যাব যৌথভাবে তদন্ত চালাচ্ছে।



