গাজীপুরে কারখানা কর্মকর্তা অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবি: পাঁচ আসামি গ্রেফতার
গাজীপুরের শ্রীপুরে দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড (ডিবিএল) নামের একটি কারখানার তিন কর্মকর্তাকে অপহরণ করে মারধর এবং এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগে পাঁচ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ নাছির আহমেদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
মামলার পটভূমি ও গ্রেফতার
বুধবার রাতে আট জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত সাত জনের বিরুদ্ধে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন দুলাল ব্রাদার্স লিমিটেড কারখানার কাটিং সুপারভাইজার নাঈম আহম্মেদ লাভলু। মামলার পর রাতেই অভিযান চালিয়ে শ্রীপুর উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ধনুয়া গ্রাম থেকে পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃত আসামিদের মধ্যে রয়েছেন নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার বাইতপাড়া গ্রামের শাহিন (২০), শ্রীপুরের গাজীপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের নয়ন খান (১৮), কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরবন্দি গ্রামের রবিন (২৪), একই গ্রামের দুলাল মিয়া (৪০) এবং মাহবুব আলম (৩৫)। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
অপহরণের বিস্তারিত ঘটনা
বাদী নাঈম আহম্মেদ লাভলু বলেন, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে তার সহকর্মী অরুপ রতন শর্মা, মিঠুন এবং নিশাত ডিউটি শেষে কারখানা থেকে বের হন। আসামিরা তাদের কারখানার সামনে থেকে অপহরণ করে দক্ষিণ ধনুয়া গ্রামের এবাদত আলী খানের বাড়িতে নিয়ে আটকে রাখেন। পরে কারখানার কাছে এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
মুক্তিপণ দিতে অস্বীকার করায় অপহৃত কর্মকর্তাদের মারধর করা হয়। ঘটনাস্থলে গিয়ে বাদী নিজেও মারধরের শিকার হন এবং তার মোটরসাইকেল আটক করা হয়। তিনি কৌশলে পালিয়ে এসে ৯৯৯ নম্বরে কল করলে পুলিশ মিঠুন, নিশাত ও অরুপ রতনকে উদ্ধার করে। তাদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত ও আইনি পদক্ষেপ
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল কুদ্দুস বলেন, ‘মামলার পর রাতেই পাঁচ আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। অন্য আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে এবং ঘটনার তদন্ত গভীরভাবে করা হচ্ছে।’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, এই অপহরণ ও মুক্তিপণ দাবির ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ছড়িয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং অন্যান্য আসামিদের দ্রুত গ্রেফতারের জন্য বিশেষ টিম কাজ করছে।



