২৫ লাখ টাকা চাঁদার মামলায় বিএম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে চার্জগঠন
শরীয়তপুর-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালত চার্জগঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন। বুধবার (১ এপ্রিল) ঢাকার ১৪ নম্বর মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মাহমুদা আক্তার এই আদেশ জারি করেন। একই দিনে মামলার বাদী ব্যবসায়ী খলিলুর রহমান আদালতে জবানবন্দি দিয়ে আপস করে আসামির খালাসে আপত্তি নেই বলে জানিয়েছেন।
আদালতে বাদীর জবানবন্দি ও আপস-মিমাংসা
বিএম মোজাম্মেল হকের আইনজীবী মো. লিটন মিয়া জানান, মিথ্যা চাঁদাবাজির অভিযোগে দায়ের করা এই মামলায় মোজাম্মেল হককে আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় মামলার বাদী খলিলুর রহমানও আদালতে উপস্থিত ছিলেন। উভয় পক্ষের মধ্যে আপস-মিমাংসা সম্পন্ন হয়েছে বলে আইনজীবী দাবি করেন। চার্জগঠনের পর বাদী তার জবানবন্দি দেন, যেখানে তিনি মোজাম্মেল হককে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করেছেন। বাদীর জবানবন্দি গ্রহণের পর আদালত আগামী ৫ এপ্রিল রায় ঘোষণার তারিখ ধার্য করেছেন, যা এই মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মামলার অভিযোগের বিবরণ
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৫ সালে জাতীয় নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগ নেতা বিএম মোজাম্মেল হক ভুক্তভোগী খলিলুর রহমানকে আওয়ামী ও ছাত্রলীগের লোকজনদের মাধ্যমে ধানমন্ডির তার অফিসে ডেকে নেন। সেখানে তিনি নির্বাচনি খরচ বাবদ খলিলুর রহমানের কাছ থেকে ২৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। এই টাকা পরিশোধের জন্য তিনি খলিলুর রহমানকে তিন দিনের সময় দেন এবং না দিলে তাকে গুম করার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তীতে, নিজ এলাকা শরীয়তপুরে ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ব্যবসায়ী সমিতির কাছে নানা অভিযোগ ও হুমকি দিয়ে তার ব্যবসা বন্ধ করতে বাধ্য করারও অভিযোগ উঠেছে।
গ্রেফতার ও বর্তমান অবস্থা
উল্লেখ্য, গত বছরের ৫ অক্টোবর রাজধানীর নিকেতন এলাকা থেকে বিএম মোজাম্মেল হককে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক রয়েছেন। এই মামলার প্রক্রিয়া তার আইনি লড়াইয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে, বিশেষত বাদীর জবানবন্দিতে নির্দোষ দাবির পর আদালতের সিদ্ধান্ত কেমন হবে তা এখন সবার নজরে।



