পুলিশ হত্যা তদন্তে আইজিপির বক্তব্য: 'আইন অনুযায়ী যা হয়, সেটাই হবে'
রাজশাহীতে পুলিশের পাসিং আউট প্যারেড উপলক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাজশাহী মেট্রোপলিটন সদর দফতরে এই ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
পুলিশ হত্যা তদন্ত প্রক্রিয়া
পুলিশ হত্যার তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে সাংবাদিকদের করা প্রশ্নের জবাবে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, 'শুধু পুলিশ বলছেন কেন, এখানে তো পুলিশসহ অনেক লোকই মারা গিয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিটি জিনিসের যা হয়, সেটাই হবে। এর বাইরে আমার আর কোনও বক্তব্য নেই।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, আগামীকাল শনিবার রাজশাহীতে পুলিশের পাসিং আউট প্যারেড উপলক্ষে তিনি রাজশাহীতে এসেছেন এবং এই সময় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি
আইজিপি রাজশাহীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তুলনামূলক ভালো বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, 'রাজশাহীর মানুষ শান্তিপ্রিয়। এখানে ওই ধরনের যে খারাপ কাজে লিপ্ত হওয়া বা অপরাধের সংখ্যা অনেক কম।' তবে তিনি শিক্ষিত বেকারদের কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স
মাদকের সমস্যাকে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, 'মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। পুরো ইয়াং জেনারেশন নষ্ট হয়ে যাচ্ছে মাদকের প্রভাবে। কিশোর গ্যাংসহ বিভিন্ন রকম অপরাধের সঙ্গে লিপ্ত হচ্ছে।' তিনি সিলেটে বাউল মঞ্চে হামলা সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবেও আইনের আওতায় সবাইকে আনা হবে বলে জানান।
অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ও পুলিশের ভূমিকা
দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গ টেনে আইজিপি বলেন, 'বিগত ১৭ বছরে আপনারা জানেন, ব্যাংক থেকে টাকা চলে গেছে। এ কারণে মানুষের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড স্থবির। অর্থনৈতিক কার্যক্রম পুরোদমে চালু করতে হলে সরকারের এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষার মূল ভূমিকা পালন করে পুলিশ।' তিনি জুলাই বিপ্লবের পরে পুলিশের মনোবল শূন্যের কোঠায় ছিল বলে উল্লেখ করেন, কিন্তু এখন সেই পরিস্থিতি রিগেইন করা হয়েছে।
জ্বালানি তেল সংকট ও কালোবাজারি
জ্বালানি তেলের সংকট ও কালোবাজারি প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, 'দু-একটি পেট্রল পাম্প থেকে তেল সংগ্রহ করে তা একটু বাড়তি দামে বিক্রি করে খুব বেশি লাভ হয় না। এক্ষেত্রে আমাদের নৈতিক চিন্তাভাবনারও উন্নতি ঘটাতে হবে। ম্যাজিস্ট্রেটকে আমরা সহযোগিতা করছি।'
স্মার্ট ও সেফ সিটি প্রস্তাব
ঢাকাসহ দেশের সকল বিভাগীয় শহরকে 'স্মার্ট ও সেফ সিটিতে' রূপান্তর করার জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে সরকারকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে এবং সেটির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানান তিনি।
আওয়ামী লীগ নেতাদের গ্রেফতার বিষয়ে মন্তব্য
জামিন পাওয়ার পর আওয়ামী লীগ নেতাদের অন্য মামলায় গ্রেফতার দেখানোর বিষয়ে রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজির দেওয়া একটি চিঠির বিষয়ে সাংবাদিকরা দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইজিপি বিষয়টি এড়িয়ে যান। তিনি বলেন, 'বিষয়টি তদন্তাধীন থাকায় এ ব্যাপারে কোনও মন্তব্য করবো না।'



