পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩ অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তান তার পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে আইনত বাধ্য। এই আইনে ভরণ-পোষণের দায়িত্ব, এর পরিধি এবং দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে শাস্তির বিষয়টি সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। আইনটি পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের সুরক্ষা এবং সন্তানদের দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রণীত হয়েছে।
ভরণ-পোষণের অধিকারী কারা?
আইন অনুযায়ী, জন্মদাতা পিতা ও গর্ভধারিণী মা উভয়ই ভরণ-পোষণ পাওয়ার অধিকারী। কোনো পিতা-মাতার একাধিক সন্তান থাকলে, তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনার মাধ্যমে পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের ব্যবস্থা করবেন। সন্তানের সংখ্যা যাই হোক না কেন, প্রত্যেক সন্তানেরই নিজ নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী দায়িত্ব পালন করতে হবে।
বসবাসের ব্যবস্থা
ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে প্রত্যেক সন্তানকে পিতা-মাতার একইসঙ্গে একই স্থানে বসবাসের ব্যবস্থা করতে হবে। তবে কোনো সন্তান তার পিতা বা মাতাকে, কিংবা উভয়কে, তাদের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো বৃদ্ধ নিবাস বা অন্য কোথাও একসঙ্গে বা আলাদাভাবে বসবাস করতে বাধ্য করতে পারবে না। পিতা-মাতার ইচ্ছাকে অগ্রাধিকার দেওয়া বাধ্যতামূলক।
স্বাস্থ্য ও চিকিৎসার দায়িত্ব
আইন অনুযায়ী, প্রত্যেক সন্তানকে তার পিতা-মাতার স্বাস্থ্যের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজখবর রাখতে হবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও পরিচর্যার ব্যবস্থা করতে হবে। পিতা বা মাতা সন্তানদের সঙ্গে বসবাস না করলে, তাদের সঙ্গে নিয়মিত সাক্ষাৎ করাও সন্তানের দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে অবহেলা করা যাবে না।
আর্থিক সহায়তা
কোনো পিতা বা মাতা, কিংবা উভয়, সন্তানদের থেকে পৃথকভাবে বসবাস করলে, প্রত্যেক সন্তানকে তার দৈনন্দিন আয়-রোজগার অথবা মাসিক বা বার্ষিক আয়ের যুক্তিসঙ্গত অংশ নিয়মিতভাবে পিতা-মাতাকে দিতে হবে। এই অর্থ প্রদানের পরিমাণ সন্তানের আয় ও পিতা-মাতার প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।
দাদা-দাদী ও নানা-নানীর ভরণ-পোষণ
আইন অনুযায়ী, পিতার অবর্তমানে দাদা-দাদী এবং মাতার অবর্তমানে নানা-নানীর ভরণ-পোষণের দায়িত্বও সন্তানের ওপর বর্তায়। এই ভরণ-পোষণ পিতা-মাতার ভরণ-পোষণের অংশ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ, পিতা-মাতা জীবিত না থাকলে, তাদের স্থলে দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ নিশ্চিত করতে হবে।
ভরণ-পোষণ না দিলে শাস্তি
পিতা-মাতা কিংবা তাদের অবর্তমানে দাদা-দাদী বা নানা-নানীর ভরণ-পোষণ না করলে তা অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। এই অপরাধে সর্বোচ্চ এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড হতে পারে। অর্থদণ্ড অনাদায়ে সর্বোচ্চ তিন মাসের কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এছাড়া, কোনো সন্তানের স্ত্রী বা স্বামী, পুত্র-কন্যা কিংবা অন্য কোনো নিকট আত্মীয় ভরণ-পোষণে বাধা দিলে বা এ বিষয়ে অসহযোগিতা করলে তারাও একই দণ্ডে দণ্ডিত হবেন।
আইনটি পিতা-মাতার প্রতি সন্তানের দায়িত্ব ও কর্তব্যকে আইনি কাঠামোয় আবদ্ধ করেছে, যা সমাজে বয়স্কদের সুরক্ষা ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।



