ডিবির হেফাজতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, এক-এগারো ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে
ডিবির হেফাজতে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

ডিবির হেফাজতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী, এক-এগারো ও দুর্নীতির অভিযোগে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে

ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি) সাবেক সেনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে গ্রেপ্তার করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে। গত সোমবার রাতে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তারের পর ডিবির গাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। মানব পাচার মামলায় আদালতের মাধ্যমে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে তাঁকে, যার দ্বিতীয় দিন ছিল গত বৃহস্পতিবার।

জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর ভূমিকা ও সুবিধাভোগের অভিযোগ

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে এক-এগারোর সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর প্রভাবশালী হয়ে ওঠার প্রক্রিয়া, পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে সুবিধাভোগের অভিযোগ এবং এ ক্ষেত্রে তাঁর সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য জানার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে তদন্তসংশ্লিষ্টরা এখন পর্যন্ত খুব বেশি তথ্য পাননি বলে জানা গেছে।

২০০৭ সালে তৎকালীন মেজর জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারোর সময়ের বিতর্কিত ও প্রভাবশালী সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত। জিজ্ঞাসাবাদ-সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করে, তিনি এক-এগারোর নেপথ্যের প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন এবং আওয়ামী লীগ সরকারের সময়েও বিশেষ সুবিধাভোগী হিসেবে ভূমিকা পালন করেছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

অবসরে যাওয়ার পর মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে জনশক্তি রপ্তানির ব্যবসা শুরু করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠানোর নাম করে চক্র গড়ে তুলে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ করার বিষয়ে তদন্ত চলছে। এসব বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তিনি কীভাবে রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করেছেন, সেই বিষয়ে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এ বিষয়ে ডিবির যুগ্ম কমিশনার মোহাম্মদ নাসিরুল ইসলাম গতকাল প্রথম আলোকে বলেন, "মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী সুনির্দিষ্ট মামলায় রিমান্ডে আছেন। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এ-সংক্রান্ত অনেক তথ্য পাওয়া গেছে। তবে এসব তথ্য যাচাই-বাছাই করে দেখা হচ্ছে।"

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও দুদকের তদন্ত

মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে ঢাকা ও ফেনীতে ১১টি মামলা রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তাঁর বিরুদ্ধে ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে মামলা করেছে। দুদক ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখাতে আদালতে আবেদন করেছে এবং আদালত এ বিষয়ে আদেশের জন্য ৯ এপ্রিল দিন ধার্য করেছেন।

এই ঘটনা বাংলাদেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও দুর্নীতি দমনের প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তদন্তের অগ্রগতি ও ফলাফল নিয়ে দেশব্যাপী নজর রাখা হচ্ছে।