গাইবান্ধায় থানায় ঢুকে পুলিশ সদস্যদের মারধর, ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পৌর মালিকানাধীন একটি দোকানের তালা খুলে না দেওয়ায় যুব জামায়াত নেতারা থানায় ঢুকে ওসি ও এসআইসহ ৮ পুলিশ সদস্যকে মারধর করেছে। এ ঘটনায় পুলিশ ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে।
ঘটনার বিবরণ
বুধবার (২৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে পলাশবাড়ী থানায় এ ঘটনা ঘটে। যুব জামায়াতের বায়তুল মাল সম্পাদক মাহমুদুল হাসান পলাশের নেতৃত্বে কয়েকজন যুবক থানায় প্রবেশ করে। তারা থানার ওসি সারোয়ারে আলমকে কালিবাড়ি বাজারের একটি বিবাদমান দোকান তালাবদ্ধ করতে বলেন। ওসি রাজি না হলে পলাশ ও তার লোকজন পুলিশ সদস্যদের ওপর চড়াও হয়ে মারধর শুরু করে। এতে ওসি সারোয়ারে আলম, এসআই রুহুল আমীনসহ মোট ৮ পুলিশ সদস্য আহত হন।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
পলাশবাড়ী-গোবিন্দগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রশিদুল বারী সাংবাদিকদের জানান, দোকানের তালা লাগানোকে কেন্দ্র করে বিক্ষুদ্ধ যুব জামায়াত নেতারা থানায় ঢুকে হামলা চালায়। খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে পরিস্থিতি শান্ত হয়। পরে এসআই রুহুল আমিন বাদী হয়ে পলাশবাড়ী থানায় ৮ জামায়াত নেতাসহ অজ্ঞানামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
জামায়াত নেতার বক্তব্য
পলাশবাড়ী উপজেলা জামায়াতের আমির আবু বক্কর সিদ্দিক ঘটনাস্থলে পৌঁছে বলেন, সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দলীয় কেউ জড়িত থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি মামলা করার অনুমতি দেন। থানার ওসি সরোয়ার আলম জানান, অভিযুক্ত ৮ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শীঘ্রই তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং পুলিশ প্রশাসন দ্রুত তদন্ত ও ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গাইবান্ধা জেলার পলাশবাড়ী থানায় এই হামলা আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।



