জাবি শিক্ষার্থী শারমীন হত্যা: স্বামী ফাহিম দুই দিনের রিমান্ডে
জাবি শিক্ষার্থী শারমীন হত্যা: স্বামী রিমান্ডে

জাবি শিক্ষার্থী শারমীন হত্যা মামলায় স্বামী দুই দিনের রিমান্ডে

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) এক ছাত্রী শারমীন জাহান হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়া তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে দুই দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার (২৪ মার্চ ২০২৬) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান শুনানি শেষে এ আদেশ জারি করেন।

রিমান্ড শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত

রিমান্ড শুনানির জন্য ফাহিমকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হলে আসামিপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ জাহিদুল ইসলাম তার জামিন আবেদন করেন। তবে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন। ঢাকা জেলা পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার এসআই মো. শহিদুজ্জামান গত ১৬ মার্চ আসামির পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। ওইদিন আদালত রিমান্ড শুনানির জন্য ২৪ মার্চ দিন নির্ধারণ করেছিলেন। রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলামনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, তবে হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের শনাক্ত করতে তাকে আরও নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

হত্যার পটভূমি ও মামলার বিবরণ

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত শারমীন জাহান জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকা কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী। প্রেমের সম্পর্কের পর গত বছরের ২৪ জুন তারা বিয়ে করেন এবং বিষয়টি পরিবারকে জানান। পরে একই বছরের সেপ্টেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন ইসলামনগর এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে একসঙ্গে বসবাস শুরু করেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কলহ দেখা দেয়, যা শারমীন তার পরিবারকে জানিয়েছিলেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, গত ১৫ মার্চ বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ফাহিম মোবাইল ফোনে শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলামকে জানান, শারমীন গুরুতর অসুস্থ। খবর পেয়ে বাসায় গিয়ে মনিরুল ইসলাম তাকে খাটের ওপর রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় শারমীনকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সুরতহাল প্রতিবেদনে শারমীনের কপালের ডান পাশে ও মাথার ওপরে গভীর কাটা জখমের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার দিনই (১৫ মার্চ) শারমীনের চাচা মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হত্যা মামলাটির তদন্ত দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। রিমান্ডের মাধ্যমে আসামি ফাহিমের কাছ থেকে আরও তথ্য সংগ্রহ করার চেষ্টা করা হবে, যা হত্যার পেছনের মোটিভ এবং সম্ভাব্য সহযোগীদের শনাক্ত করতে সাহায্য করতে পারে। আদালতের এই সিদ্ধান্ত তদন্তকে ত্বরান্বিত করতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে এবং নিহত শিক্ষার্থীর পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর একটি বিবৃতিতে বলেছেন, তারা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করবে এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

এই ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ও পারিবারিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে আলোচনার সূত্রপাত করেছে। শিক্ষার্থী ও স্থানীয় বাসিন্দারা ন্যায়বিচার ও দ্রুত তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।