নাটকের জনপ্রিয় অভিনেতা ফারুক আহমেদ মা দিবসে মাকে স্মরণ করে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন। শনিবার (৯ মে) রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে শৈশবের একটি স্মৃতি তুলে ধরে তিনি মায়ের কাছ থেকে পাওয়া সততার শিক্ষার কথা জানান।
শৈশবের স্মৃতি
পোস্টে অভিনেতা লিখেন, আজ মা দিবস। আজ থেকে ৫৮ বছর আগের ঘটনা। আমার বয়স তখন ৮/৯ বছর। মা বললেন, যা বাবা কেনুর মায়ের বাড়ি থেকে এক সের বেগুন নিয়ে আয়। এই নে পয়সা। আমি মায়ের দেওয়া এক আনা পয়সা নিয়ে আমাদের বাড়ির পিছনে সুতালড়ি গ্রামের দিকে জমির আল ধরে দৌড় দিলাম।
কেনুর মা বৃদ্ধা। স্বামী মারা গেছে কেনুর জন্মের পরপর। লাউ পাতা, শাক-সবজি বিক্রি করে চালাতো সংসার। ফারুক আহমেদ স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমি কেনুর মা'র হাতে এক আনা পয়সা দিয়ে বললাম, মা বলছে এক সের বেগুন দিতে। তিনি মিষ্টি হাসি দিয়ে বললেন, খাড়াও দিতেছি।
বেগুনের ঘটনা
কেনুর মা বেগুন গাছ থেকে তাজা বেগুন ছিড়ে ছিঁড়ে চটের ছোট থলিতে রাখলেন। বললেন, যাও নিয়া যাও। মাপুনের কাম নাই। আন্দাজ কইরা দিছি। এক সেরের বেশি হইবো। আমি থলি নিয়ে দৌড়। রান্না ঘরে গিয়ে মাকে বললাম, মা বেগুন। মা বেগুনের থলি হাতে নিয়ে বললেন, এত বেগুন কেন? এইখানে এক সেরের বেশি আছে।
মা পাল্লা নিয়ে সব বেগুন মাপ দিলেন। মাপ দিয়ে দেখলেন বেগুন দুই সের। মা তখন বললেন, আমি তোমারে এক সেরের পয়সা দিছি। তুমি দুই সের আনলা কিভাবে। জবাবে ফারুক আহমেদ বলেন, কেনুর মা ওজন দেয় নাই। আন্দাজ করে দিছে। বলছে এক সেরের একটু বেশি হইতে পারে। গাছের জিনিস। নিয়া যাও। আমি নিয়া আসছি।
মায়ের শিক্ষা
মা আমার দিকে নির্বিকার তাকিয়ে থেকে এক আনা পয়সা দিয়ে বললেন, যাও বাবা কেনুর মায়েরে দিয়া আসো। বলবা বেগুন ছিলো দুই সের। মা আরও এক সেরের দাম এক আনা পাঠাইছে। রাখেন। পোস্টে অভিনেতা উল্লেখ করেন, এক আনা পয়সা কেনুর মায়ের হাতে গুঁজে দিয়ে বাড়ির দিকে দৌড় দিলাম। মা আমাকে দেখে বললেন, কেনুর মায়েরে পয়সা দিছো? আমি মাকে জড়িয়ে ধরে বললাম, দিছি মা। মা বললেন, শোন বাবা, নিজে ঠকবে অন্যকে ঠকাবে না।
আমি মাকে কি করে বুঝাই, মা আমি কেনুর মাকে ঠকাই নাই। সে নিজে আমাকে ইচ্ছা করে বেশি বেগুন দিয়েছে। তারপরও মা আমি আজীবন তোমার কথার খেলাপ করবো না। মাকে স্মরণ করে ফারুক আহমেদ আরও লিখেন, মা এখন দূর বহুদূরে। হয়তো রাতের আকাশের তারা হয়ে জ্বলছে। হয়তো আমাকে বলছে, ভালো আছিস বাবা?
অভিনেতার এই আবেগঘন পোস্ট সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকেই তার মায়ের প্রতি ভালোবাসা ও সততার শিক্ষাকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছেন।



