আদালত প্রাঙ্গণে সাবেক সেনা কর্মকর্তার গায়ে ময়লা পানি নিক্ষেপের ঘটনা
ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত প্রাঙ্গণে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। মানব পাচার আইনের এক মামলায় রিমান্ডে থাকা সাবেক সেনা কর্মকর্তা ও ফেনী-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর গায়ে ময়লা পানি নিক্ষেপ করা হয়েছে। আজ মঙ্গলবার বিকেলে এই ঘটনা ঘটে, যা আদালত কক্ষের বাইরে সংঘটিত হয়।
রিমান্ড শুনানি ও আদালতের সিদ্ধান্ত
আদালত সূত্রে জানা গেছে, আজ বিকেল ৫টা ১০ মিনিটে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) একটি মাইক্রোবাসে করে সিএমএম আদালতে আনা হয়। আট মিনিট পর তাঁকে এজলাসে তোলা হয়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবির উপপরিদর্শক (এসআই) রায়হানুর রহমান জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাসুদ চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।
রাষ্ট্রপক্ষে পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে শুনানি পরিচালনা করেন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী মোরশেদ হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। শুনানি শেষে বিচারক মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
ময়লা পানি নিক্ষেপের বিস্তারিত ঘটনা
শুনানি শেষে সন্ধ্যা ছয়টার দিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে হাজতখানার উদ্দেশে নবম তলার আদালত থেকে বের করা হয়। তিনি লিফট থেকে নিচতলায় নেমে কিছুটা হেঁটে সামনে আসার পর পেছন থেকে এক ব্যক্তি তাঁর গায়ে ময়লা পানি ঢেলে দেন। ওই ব্যক্তি আগে থেকে নীল পলিথিনে ময়লা পানি নিয়ে সেখানে দাঁড়িয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।
তাৎক্ষণিক কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যরা চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিকে থামাতে পারেননি। এ সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর হাতে এবং গায়ে থাকা বুলেট প্রুফ জ্যাকেটের সামনে ও পেছনে ময়লা পানি দেখা যায়। পরে পুলিশ সদস্যরা তাঁকে দ্রুত হাজতখানার নিয়ে যান।
এই ঘটনায় আদালত প্রাঙ্গণে উত্তেজনা তৈরি হয়, যদিও দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এক-এগারোর সময়ের আলোচিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত, এবং এই মানব পাচার মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ময়লা পানি নিক্ষেপকারী ব্যক্তির পরিচয় ও উদ্দেশ্য এখনো স্পষ্ট নয়, এবং ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। আদালত কর্তৃপক্ষ এই ঘটনাকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার কথা বিবেচনা করছে।



