প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয়ে প্রতারণার মামলায় আসামির চার দিনের রিমান্ড
প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মো. আবদুস সালামকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকুল ইসলাম রাসেল এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেপ্তার ও আদালত কার্যক্রম
১৫ মার্চ সকালে রাজধানীর আগারগাঁও এলাকা থেকে আবদুস সালামকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ঘটনায় শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা হয়। পরদিন মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও শেরেবাংলা নগর থানার এসআই মো. বুলবুল আহমেদ আসামিকে আদালতে হাজির করেন। এরপর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। ওই দিন আদালত আসামিকে কারাগারে পাঠিয়ে রিমান্ড শুনানির জন্য আজ মঙ্গলবার দিন ধার্য করেছিলেন।
রিমান্ড আবেদনের কারণ
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। প্রাথমিক তদন্তে মামলার ঘটনায় আসামির জড়িত থাকার তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার আসামিকে অজ্ঞাতনামা আসামিদের নাম-ঠিকানা নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি অসংলগ্ন ও এলোমেলো কথাবার্তা বলেন। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটন, অজ্ঞাতনামা পলাতক আসামিদের নাম, ঠিকানা, অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ এবং আসামির ব্যবহৃত মুঠোফোন, ফোনালাপের বিস্তারিত, খুদে বার্তা আদান-প্রদান ও ডিজিটাল যোগাযোগের তথ্য সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড একান্ত প্রয়োজন ছিল।
আদালতের শুনানি ও সিদ্ধান্ত
আসামিপক্ষের আইনজীবী রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিনের আবেদন করেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জামিনের বিরোধিতা করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আসামির চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। আদালতের সিদ্ধান্তে উল্লেখ করা হয় যে, তদন্তের অগ্রগতি ও প্রমাণের ভিত্তিতে এই রিমান্ড প্রয়োজনীয় বলে বিবেচিত হয়েছে।
মামলার এজাহারের বিবরণ
মামলার এজাহারে বলা হয়, আবদুস সালাম দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর পিএস পরিচয় ব্যবহার করে আসছিলেন। এই ভুয়া পরিচয়ের আড়ালে তিনি অবৈধ আর্থিক লেনদেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ-বাণিজ্যসহ নানা প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ড চালান। তাঁর বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে পৌঁছালে তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে প্রাথমিকভাবে তাঁর জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে, যা আদালতে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই মামলাটি আইন বিভাগের একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা প্রতারণা ও আইন শৃঙ্খলা রক্ষায় আদালতের ভূমিকা তুলে ধরে। তদন্তের অগ্রগতি ও আসামির জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য ভবিষ্যতে মামলার দিকনির্দেশনা নির্ধারণে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।



