জাবি শিক্ষার্থী হত্যা মামলায় স্বামী গ্রেফতার, আদালতে রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছে
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থী শারমিন জাহান খাদিজা হত্যার ঘটনায় হওয়া মামলায় তার স্বামী ফাহিম আল হাসানকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। তবে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তার অনুপস্থিতিতে রিমান্ড শুনানি পিছিয়েছেন আদালত। রিমান্ড শুনানির জন্য আগামী ২৪ মার্চের দিন ধার্য করা হয়েছে।
আদালতের শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার কারণ
সোমবার (১৬ মার্চ) ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আয়শা সিদ্দিকা শুনানির জন্য পরবর্তী এ দিন ধার্য করেন। প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই বিশ্বজিৎ দেবনাথ বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এদিন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আশুলিয়া থানার পুলিশ এসআই মো. শহিদুজ্জামান আসামি ফাহিমের রিমান্ড আবেদন করেন। তবে, তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। পরে রিমান্ড আবেদন গ্রহণ করে শুনানির জন্য নতুন তারিখ ধার্য করেন আদালত।
হত্যা মামলার পটভূমি ও অভিযোগ
শারমিন হত্যার ঘটনায় নিহতের চাচা মো. মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে আজ আশুলিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, নিহত শারমিন জাহান খাদিজা জাবির লোক প্রশাসন বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। অন্যদিকে, গ্রেফতারকৃত স্বামী ফাহিম আল হাসান ঢাকার একটি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের চতুর্থ বর্ষের ছাত্র। গত বছরের জুন মাসে তারা পরিবারের অগোচরে বিয়ে করে। এরপর থেকে তারা জাবির পেছনের এলাকা ইসলামনগরের একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকেন। বিয়ের পর থেকেই তাদের মধ্যে পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিলো।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ও গ্রেফতার
গত ১৫ মার্চ বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টার মধ্যে কোনও এক সময়ে ফাহিম অজ্ঞাত সহযোগীদের নিয়ে পরিকল্পিতভাবে শারমিনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কপালে ও মাথায় কুপিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যায়। খবর পেয়ে নিহতের স্বজনরা তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। রিমান্ড আবেদনে তদন্তকারী কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, হত্যাকাণ্ডের পর আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় ফাহিমকে ওই রাতেই ইসলামনগর এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিম ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিলেও হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক সহযোগীদের জন্য জন্য তাকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। এ জন্য তার পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করছি।
আদালতের ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ
আদালত রিমান্ড শুনানি পিছিয়ে দেওয়ায় এখন ২৪ মার্চের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। এই সময়ের মধ্যে তদন্তকারীরা আরও প্রমাণ সংগ্রহ ও জিজ্ঞাসাবাদ চালাতে পারবেন বলে আশা করা হচ্ছে। পুলিশের গ্রেফতার ও আদালতের সিদ্ধান্ত এই মামলার ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
