মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি: আত্মীয় পরিচয়ে আবদুর রউফ গ্রেপ্তার
মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি, আবদুর রউফ গ্রেপ্তার

মেহেরপুরে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নামে চাঁদাবাজি: আত্মীয় পরিচয়ে আবদুর রউফ গ্রেপ্তার

মেহেরপুর সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদাবাজি করতে গিয়ে আবদুর রউফ নামের এক ব্যক্তিকে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে। আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে শহরের বাসস্ট্যান্ড–সংলগ্ন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। আবদুর রউফ শহরের মল্লিকপাড়ার প্রয়াত সরাফত আলীর ছেলে বলে জানা গেছে।

দীর্ঘদিনের হুমকি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ

পুলিশ ও পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, আবদুর রউফ দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীর আত্মীয় ও সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে দাপট দেখিয়ে আসছিলেন। রমজান মাসের শুরু থেকেই তিনি সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কার্যালয়ের প্রধান সহকারী মোশারফ হোসেন ও পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেনকে মুঠোফোনে এবং হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠিয়ে ২০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা না দিলে তাঁদের দেখে নেওয়ার হুমকি দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

কার্যালয়ে সরাসরি টাকা দাবি ও গ্রেপ্তার

আজ রোববার সকালে তিনি কার্যালয়ে গিয়ে সরাসরি টাকা চাইলে অফিসের কর্মীরা তাঁকে হাতেনাতে আটকে রেখে পুলিশে খবর দেন। সদর উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ের পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বলেন, ‘ওই ব্যক্তি নিজেকে মন্ত্রীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে আমাদের ওপর মানসিক চাপ সৃষ্টি করছিলেন। আজ সকালে অফিসে এসে সরাসরি টাকা দাবি করলে আমরা সহকর্মীরা মিলে তাঁকে আটকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাই।’

পুলিশি তদন্ত ও মামলা

উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আঞ্জুমান আরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘আমার অফিসের দুজন স্টাফের কাছে চাঁদাবাজির খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিক সদর থানা-পুলিশকে জানাই। পুলিশ এসে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে আটক করে নিয়ে গেছে।’ মেহেরপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবীর বলেন, আটক আবদুর রউফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগে একটি মামলা করা হয়েছে। পরিসংখ্যানবিদ আকরাম হোসেন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। পুলিশ বিষয়টি খতিয়ে দেখছে এবং তদন্ত চলমান রয়েছে।

এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ প্রশংসা অর্জন করেছে। চাঁদাবাজির মতো অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। আবদুর রউফের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে সচেতনতা বাড়ানো হবে বলে আশা প্রকাশ করা হচ্ছে।