জুলাই আন্দোলনের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের পুনঃতদন্ত ও সেনা আইনে বিচারের দাবি
জুলাই আন্দোলনের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের পুনঃতদন্ত দাবি

জুলাই আন্দোলনের মামলায় সেনা কর্মকর্তাদের পুনঃতদন্ত ও সেনা আইনে বিচারের দাবি

গুম, খুনসহ জুলাই আন্দোলনের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধে সেনা কর্মকর্তাদের মামলাগুলোর পুনঃতদন্তের দাবি জানিয়েছেন তাদের পক্ষের আইনজীবী এবিএম হামিদুল মিসবাহ। একইসঙ্গে তিনি এসব কর্মকর্তার বিচার সেনা আইনের আওতায় করার জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এই দাবিগুলো উত্থাপন করেন।

মামলার বর্তমান অবস্থা ও আইনজীবীর যুক্তি

হামিদুল মিসবাহ স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, সেনা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে তিনটি মামলা সক্রিয়ভাবে চলমান রয়েছে। এই মামলাগুলোতে চাকরিরত অবস্থায় থাকা মোট ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা গ্রেফতার হয়ে আছেন এবং তারা আইনি প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হচ্ছেন। তিনি তার বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন, চলমান এই তিনটি মামলাই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রকৃত অধিক্ষেত্রের মধ্যে পড়ে না বলে তার দৃঢ় বিশ্বাস।

তার ভাষ্যে, যেহেতু অভিযুক্তরা সরাসরি কর্মরত সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, তাই আইনের দৃষ্টিকোণ থেকে এসব অভিযোগ মানবতাবিরোধী অপরাধের সঠিক আওতায় পড়ে কিনা তা পুনর্বিবেচনা করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করেন, "এক্ষেত্রে শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের দিকটি বিবেচনা করলেই হবে না। এখানে সেনা আইনও রয়েছে। যেহেতু তারা কর্মরত সেনা কর্মকর্তা ছিলেন, সেহেতু তাদের বিচার সেনা আইনের আওতায় হওয়া সম্ভব ছিল। এখনও সেই সুযোগ আইনের মধ্যেই সক্রিয়ভাবে রয়েছে।"

তদন্ত প্রক্রিয়া ও আইনগত জটিলতা

তদন্তে কোনও প্রকার গাফিলতি হয়েছে কিনা—এমন সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এই আইনজীবী দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, সেনা আইন বিদ্যমান থাকা সত্ত্বেও ট্রাইব্যুনালের আইন সংশোধন করা হয়েছে, যা সরাসরি সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। তার মতে, এই সংশোধনী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে করা হয়েছে এবং এটি একটি আইনগত বৈপরীত্য তৈরি করেছে।

মিসবাহ স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন, "সেনা কর্মকর্তাদের মামলাগুলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আনা সেনা আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক এবং এটি একটি গুরুতর আইনি সমস্যা।" তিনি আরও জানান, এসব মামলার পুনঃতদন্তের জন্য তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানানো অব্যাহত রাখবেন। তার বিশ্লেষণে, অভিযুক্ত ১৫ জন সেনা কর্মকর্তা নিজেদের তাগিদেই সক্রিয়ভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন এবং তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন।

আইনের প্রতি শ্রদ্ধা ও ন্যায়বিচারের দাবি

তিনি তার বক্তব্যে আরও যোগ করেন, "তারা চাইলে সহজেই আত্মসমর্পণ না-ও করতে পারতেন। কিন্তু আইনের প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা রেখেই তারা স্বেচ্ছায় আদালতে এসেছেন। যদি কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে নিজ নিজ আইনের সঠিক আওতায় তাদের ন্যায়বিচার হওয়াই উচিত এবং এটি একটি মৌলিক অধিকার।" এই প্রসঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, সেনা কর্মকর্তাদের জন্য সেনা আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি একটি পৃথক ও স্বতন্ত্র আইনি কাঠামো।

সামগ্রিকভাবে, এবিএম হামিদুল মিসবাহের এই দাবিগুলো জুলাই আন্দোলন সংক্রান্ত মামলাগুলোর আইনি প্রক্রিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে এবং এটি আইনগত বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলছে। তার মতে, পুনঃতদন্ত ও সেনা আইনের প্রয়োগই এই ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।