সরকারের সিদ্ধান্ত: কোহিনূর মিয়ার বরখাস্ত আদেশ বাতিল, চাকরিকাল ও সুবিধা পুনরুদ্ধার
সরকার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক উপকমিশনার মো. কোহিনূর মিয়ার বরখাস্ত আদেশ বাতিল করে একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নতুন প্রজ্ঞাপনে তাঁর বরখাস্তকালকে চাকরিকাল হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তিনি বিধি মোতাবেক সব ধরনের বকেয়া বেতন-ভাতাদি ও অন্যান্য সুবিধা পাবেন। এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে জানানো হয়েছে।
আদালতের নির্দোষ রায় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদন
২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি কোহিনূর মিয়াকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল দুটি বিভাগীয় মামলার ভিত্তিতে। তবে একই অভিযোগে দায়ের করা দুটি ফৌজদারি মামলায় বিজ্ঞ আদালত তাঁকে নির্দোষ গণ্য করে খালাস দেন। রাষ্ট্রপতি তাঁর গুরুদণ্ডাদেশ পুনর্বিবেচনার আবেদন মঞ্জুর করায় বরখাস্তের আদেশ বাতিল করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, এই সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তাঁর চাকরির মর্যাদা ও আর্থিক সুবিধা পুনরুদ্ধার করা হলো।
কে এই কোহিনূর মিয়া?
কোহিনূর মিয়া বিসিএস ১২তম ব্যাচের কর্মকর্তা হিসেবে পরিচিত এবং তাঁর বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায়। বিএনপি-জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন চার–দলীয় জোট সরকারের আমলে তিনি তৎকালীন সরকারের আস্থাভাজন পুলিশ কর্মকর্তা ছিলেন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর তিনি কোণঠাসা হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে আত্মগোপনে চলে যান।
মামলার পটভূমি ও আইনি প্রক্রিয়া
২০০৬ সালের ১২ মার্চ ধানমন্ডির রাপা প্লাজারে শাহিন সুলতানা শান্তা নামের এক নারী পুলিশের নির্যাতনের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন। এই ঘটনায় কোহিনূর মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়, কিন্তু সিআইডি তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৩ সালে আদালত অভিযোগ গঠন করলেও সাক্ষীরা কিছুই জানেন না বলে জানানোর পর কোহিনূর মিয়াসহ তিনজনকে খালাস দেওয়া হয়।
অন্যদিকে, ২০০৪ সালের ৫ মে ময়মনসিংহের নান্দাইলে পৌরসভা নির্বাচনকালে সংঘর্ষে দুজন নিহত হওয়ার ঘটনায়ও কোহিনূর মিয়ার নাম উঠে আসে। ২০০৭ সালে দায়ের করা মামলায় সিআইডি তদন্তের পর ২০১১ সালে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়, কিন্তু আদালত অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তাঁকে খালাস দেন।
সিদ্ধান্তের তাৎপর্য
সরকারের এই সিদ্ধান্ত কোহিনূর মিয়ার পেশাগত জীবন ও আর্থিক অবস্থানে একটি বড় পরিবর্তন আনবে। আদালতের রায় ও রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের ভিত্তিতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যা ন্যায়বিচার ও আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে। এটি পুলিশ প্রশাসন ও সরকারি চাকরিতে নিয়োগ-বরখাস্তের বিষয়ে একটি উল্লেখযোগ্য নজির স্থাপন করতে পারে।
