হত্যাচেষ্টা মামলায় রিয়াদের রিমান্ড আদেশ, তিন আসামির জামিন মঞ্জুর
চাঁদাবাজিকাণ্ডে আলোচনায় আসা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান রিয়াদকে হত্যাচেষ্টা মামলায় দুই দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। তবে এ মামলায় অন্য তিন আসামি মো. রিয়াদুল হাওলাদার, মো. আলিফ আহম্মেদ আশিক ও সায়েম শিকদারের জামিন আবেদন মঞ্জুর হয়েছে।
আদালতের শুনানি ও রিমান্ড আদেশ
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ শুনানি নিয়ে এ আদেশ দেন। প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) মোক্তার হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টার দিকে আসামিদের গ্রেফতার করে পুলিশ। পরদিন তাদের কারাগারে পাঠানো হয়। রাষ্ট্রপক্ষের এপিপি শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
পরে ১ মার্চ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরমান আলী আসামিদের পাঁচ দিন করে রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে আজ শুনানির দিন ধার্য করেন। এদিন শুনানিকালে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। তদন্ত কর্মকর্তা রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।
আইনজীবীদের যুক্তি ও জামিন আবেদন
রিয়াদের পক্ষে আইনজীবী জাকির হোসাইন এবং অন্য তিন আসামির পক্ষে সাখাওয়াত হোসেন রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। তিন আসামির আইনজীবী সাখাওয়াত হোসেন আদালতে বলেন, "তারা চাকরি পরীক্ষার্থী। এই বিবেচনায় তাদের জামিন প্রার্থনা করছি।" আদালত এই যুক্তি বিবেচনায় নিয়ে তিন আসামির জামিন মঞ্জুর করেন, তবে রিয়াদের রিমান্ড আদেশ বহাল রাখেন।
মামলার পটভূমি ও অভিযোগের বিবরণ
প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী নির্জন সরদার বাঁধন বাদী হয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যাচেষ্টা মামলা করেন। এতে অজ্ঞাত ১০-২২ জনকে আসামি করা হয়। মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, আসামিদের সঙ্গে নির্জন ও তার বন্ধুদের পূর্ব শত্রুতা ছিল।
২৬ ফেব্রুয়ারি বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটির চতুর্থ তলায় ৪১২ নম্বর কক্ষে সাক্ষাৎ হলে আসামিরা তাকে (নির্জন) সমাবর্তনে অংশগ্রহণের জন্য বলেন। বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আনিসুর রহমানের সঙ্গে পরামর্শ করার সময়ে রিয়াদের হুকুমে আসামি রিয়াদুল ও সায়েম চেয়ার দিয়ে তাকে আঘাত করেন। এতে তিনি পিঠে ও বুকে আঘাত পান।
এজাহারে বলা হয়, রিয়াদ সুইচ গিয়ার চাকু দিয়ে নির্জনকে হত্যার উদ্দেশে মুখমণ্ডলে আঘাত করে। এতে তার নাকে লেগে উপরিভাগ কেটে গুরুতর জখম হয়। এ সময় তাকে এলোপাতারি মারধর করা হয়। তখন তার বন্ধুবান্ধব ও প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি শিক্ষকরা এগিয়ে এলে আসামিরা নির্জনকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি ও হুমকি দেয়। পরে গুলশান থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তদের আটক করে নিয়ে যায়।
রিয়াদের পূর্ববর্তী মামলার ইতিহাস
গত বছরের ২৬ জুলাই গুলশানে সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবির মামলা গ্রেফতার হন রিয়াদ। ওই মামলায় জামিনে কারামুক্ত হয়ে তিনি হত্যাচেষ্টা মামলায় নাম জড়ালেন। এই ঘটনাটি তার আইনগত ইতিহাসে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে এবং তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের জন্য অতিরিক্ত চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
