ভিনিসিয়ুসের নাচে ভেসে গেল স্কটল্যান্ড, ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের পুরনো ধারা ফিরছে
ভিনির নাচে ব্রাজিলের জয়, বিশ্বকাপ জয়ের ধারা ফিরছে

ব্রাজিলের বিশ্বকাপ জয়ের একটি ঐতিহাসিক ধারা আছে: গ্রুপ পর্বের সব ম্যাচে কোনো না কোনো খেলোয়াড় গোল করলে সেলেসাওরা শিরোপা জিতেছে। ১৯৭০ সালে জেয়ারজিনহো, ১৯৯৪ সালে রোমারিও, ২০০২ সালে রোনালদো ও রিভালদো—সবাই গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচে গোল করেছেন এবং ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছে। এবার ২০২৬ বিশ্বকাপে ‘সি’ গ্রুপের তিন ম্যাচেই গোল করেছেন ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। এই ধারা অনুযায়ী, ব্রাজিলের শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা প্রবল।

ভিনিসিয়ুসের নাচ ও গোল

স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে ব্রাজিল ৩–০ গোলে জিতেছে। ভিনিসিয়ুস দুটি গোল করেন এবং কর্নার ফ্ল্যাগের সামনে গিয়ে নিজের বিখ্যাত নাচ পরিবেশন করেন। গ্যালারি থেকে ভেসে আসে ‘বাইলা ভিনি’ স্লোগান। পুরো ব্রাজিল দলই সাম্বার ছন্দে নেচেছে। ম্যাচটি আরও তিন–চারটি গোল হতে পারত বলে মনে হয়েছে, কিন্তু ভিনির দায়িত্বশীল খেলা দলকে জিতিয়েছে।

ভিনির বদলে যাওয়া ফুটবল

একসময় ব্রাজিলের জার্সিতে প্রত্যাশার চাপে ভিনি হতাশ ছিলেন। কিন্তু আনচেলত্তি কোচ হওয়ার পর তাঁর খেলায় ফিরেছে সৌন্দর্য। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে তাঁর প্রথম গোলটি স্কটিশ রক্ষণের ভুলের সুযোগ নিয়ে করা, দ্বিতীয়টি হেডে—যা ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফরোয়ার্ডদের জন্য অস্বাভাবিক হলেও বদলে যাওয়া ব্রাজিলের প্রতিচ্ছবি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভিনগ্রহের ভবিষ্যতবাণী

ম্যাচের আগে ব্রাজিলের জ্যোতিষী ভো বাইয়ানিনহা ভবিষ্যতবাণী করেন যে ভিনগ্রহের প্রাণীরা মাঠে আক্রমণ করতে পারে। রূপক অর্থে, ভিনি নিজেই সেই ‘এক্সট্রাটেরেস্ট্রিয়াল’ হয়ে ওঠেন। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ম্যাচ শেষে তাঁকে ‘ভিনগ্রহের’ বলে বন্দনা করে। তাঁর দুই পা স্কটিশ ডিফেন্ডারদের লড়াইয়ের স্বপ্ন অপহরণ করেছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০০২ বিশ্বকাপের স্মৃতি

২০০২ বিশ্বকাপ ফাইনালের আগে কোচ লুই ফেলিপে স্কলারি রোনালদো নাজারিওকে বল পুনরুদ্ধারের কৌশল শিখিয়েছিলেন। মায়ামি স্টেডিয়ামে ভিনি সেই একই ধাঁচে খেলেছেন। তাঁর প্রথম গোলটি স্কটিশ রক্ষণের ভুলের পাশাপাশি তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ার ফল। বিতর্কিত ভিএআরে বাতিল হওয়া গোলটিও প্রতিপক্ষের পা থেকে বল কেড়ে নেওয়ার ফল।

বদলে যাওয়া ব্রাজিল

ভিনির হেডে করা দ্বিতীয় গোলটি ইউরোপিয়ান কোচের অধীনে বদলে যাওয়া ব্রাজিলের প্রতিচ্ছবি। ব্রাজিলিয়ান ফুটবলে ফরোয়ার্ডদের হেডে গোল করা ভালো চোখে দেখা না হলেও, পেলে ও রোনালদোর সময়ের পর থেকে এই ধারণা বদলেছে। ব্রুনো গিমারায়েসের ক্রসে ভিনির লাফিয়ে হেড করা গোলটি সেই পরিবর্তনের উদাহরণ।