রামপুরা হত্যা মামলার রায় ঘোষণা স্থগিত, রাষ্ট্রপক্ষ চার সপ্তাহ সময় চাইল
রামপুরা হত্যা মামলার রায় স্থগিত, নতুন প্রমাণ দাখিলের আবেদন

রামপুরা গণ-অভ্যুত্থান হত্যা মামলার রায় ঘোষণা স্থগিত

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রামপুরা এলাকায় জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় দুজনকে গুলি করে হত্যা এবং দুজনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার ধার্য দিন আজ বুধবার স্থগিত হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষ নতুন ডিজিটাল প্রমাণ দাখিলের জন্য চার সপ্তাহ সময় চেয়ে আবেদন করেছে, যা আজই শুনানি হওয়ার কথা ছিল।

ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম ও আবেদন

বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনাল-১-এ এই মামলার বিচার চলছে। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। আজ দুপুর পৌনে ১২টার দিকে ট্রাইব্যুনাল বসেন, যেখানে প্রসিকিউটর শাইখ মাহদী রায়ের দিন ধার্য থাকার কথা উল্লেখ করেন কিন্তু চার সপ্তাহ সময় চান।

প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম ট্রাইব্যুনালকে জানান, এই মামলায় তাঁরা নতুন কিছু ডিজিটাল প্রমাণ পেয়েছেন এবং সেগুলো দাখিল করতে সময় প্রয়োজন। অন্যদিকে, আসামিপক্ষের আইনজীবী শারমিন সুলতানা বলেন, তাঁর সিনিয়র আইনজীবী আপিল বিভাগের একটি মামলায় ব্যস্ত আছেন, তাই ‘পাসওভার’ চান। ট্রাইব্যুনাল তখন বলেন, আসামিপক্ষের আইনজীবী আসলে বিষয়টি বলবেন, ফলে অন্যান্য মামলার কার্যক্রম চলছে।

মামলার আসামি ও বর্তমান অবস্থা

রামপুরার এই মামলায় পাঁচজন আসামি রয়েছেন, যাদের মধ্যে চারজন পলাতক। পলাতক আসামিরা হলেন:

  • ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) সাবেক কমিশনার হাবিবুর রহমান
  • পুলিশের খিলগাঁও অঞ্চলের সাবেক এডিসি রাশেদুল ইসলাম
  • রামপুরা থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মশিউর রহমান
  • সাবেক এসআই তারিকুল ইসলাম ভূঁইয়া
এ মামলার একমাত্র গ্রেপ্তার আসামি হলেন পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) চঞ্চল চন্দ্র সরকার। এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া এখনো চলমান, এবং নতুন প্রমাণ দাখিলের আবেদনের পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হবে।