মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধে ময়মনসিংহে যুবক হত্যা: তিনজন গ্রেপ্তার, দুই আসামির স্বীকারোক্তি
মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধে ময়মনসিংহে যুবক হত্যা, তিনজন গ্রেপ্তার

মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধে ময়মনসিংহে যুবক হত্যা: তিনজন গ্রেপ্তার, দুই আসামির স্বীকারোক্তি

ময়মনসিংহের সদর উপজেলায় মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে এক যুবককে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে দুই আসামি আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনায় নিহত হয়েছেন মো. সুমন মিয়া (৩৫), যিনি সদর উপজেলার অষ্টধার ইউনিয়নের ভিটাপাড়া গ্রামের মো. আমছর আলীর ছেলে। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি সকালে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।

গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের পরিচয়

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অষ্টধার ইউনিয়নের কুঠুরাকান্দা গ্রামের মো. সজীব আলী (২০), ভিটাপাড়া গ্রামের নাজমুল ইসলাম (২৫) এবং একই গ্রামের ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এই তিন তরুণই মাদক ব্যবসা ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং নিহত ব্যক্তির সঙ্গে একই গ্রামের বাসিন্দা।

হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বিবরণ

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৬ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৯টার দিকে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ডটি সংঘটিত হয়। আসামিরা ধারালো ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাত করে সুমন মিয়াকে হত্যা করে। পরে অষ্টধার সেনপাড়া এলাকার রেললাইনের পাশে অবস্থিত ধানখেতের সেচের নালার ওপর মরদেহ ফেলে রেখে যায়। পরদিন পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে রোববার রাত ও সোমবার তিন তরুণকে গ্রেপ্তার করে।

জিজ্ঞাসাবাদে উঠে আসে যে, ঘটনার ১০-১৫ দিন আগে মাদকের টাকাসংক্রান্ত বিরোধের জেরে নিহত ব্যক্তির সঙ্গে আসামি সজীব আলীর হাতাহাতি হয়েছিল। ওই বিরোধের জেরেই পরিকল্পিতভাবে ঘটনার দিন সুমন মিয়াকে মুঠোফোনে ডেকে ঘটনাস্থলে আনা হয়। সেখানে গাঁজা সেবনের এক পর্যায়ে আবার টাকার বিষয় নিয়ে কথা–কাটাকাটি শুরু হলে আসামিরা সংঘবদ্ধভাবে ধারালো ছুরি দিয়ে কপাল, থুতনি, গলা, ঘাড়, বুক, তলপেটসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাঁকে হত্যা করেন।

পুলিশের অভিযান ও উদ্ধারকৃত জিনিস

গ্রেপ্তার আসামিদের নিয়ে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি ধারালো ছুরি এবং নিহত ব্যক্তির ব্যবহৃত মুঠোফোন উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনা সম্পর্কে মন্তব্য করেন, "মাদকের টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটে। গ্রেপ্তার সজীব আলী ও নাজমুল ইসলাম গতকাল আদালতে হত্যার দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। কিশোরকে গাজীপুর কিশোর সংশোধনাগারে প্রেরণ করা হয়েছে।"

এই ঘটনা মাদক সংক্রান্ত অপরাধের ভয়াবহতা এবং সামাজিক নিরাপত্তার গুরুত্বকে আরও একবার উন্মোচিত করেছে। পুলিশের দ্রুত তদন্ত ও গ্রেপ্তার কার্যক্রম প্রশংসনীয় হলেও, মাদকবিরোধী সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।