মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় তিনজনের ফাঁসি, আটজনের যাবজ্জীবন
প্রায় তিন বছর আগে মুন্সিগঞ্জের পূর্ব রাখি গ্রামে সংঘটিত শ্যামল বেপারী হত্যা মামলায় তিনজন আসামিকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল। একই মামলায় আরও আটজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক শ্যাম সুন্দর রায় এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ও যাবজ্জীবনপ্রাপ্ত আসামিদের তালিকা
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, শাহাদাত বেপারী, জাহাঙ্গীর বেপারী ও ইব্রাহিম বেপারী। অন্যদিকে, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন, মনির চৌকিদার, হায়াতুল ইসলাম চৌকিদার, হাবিব বেপারী, আশরাফুল খান, হুমায়ুন দেওয়ান, এমদাদ হালদার ওরফে ইমরান, আইয়ুব খাঁ ও লিটন বেপারী।
সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারি আবুল কালাম আজাদ বিস্তারিত জানিয়েছেন, "মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের দণ্ডের পাশাপাশি ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আর যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তদের ২৫ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।"
মামলার পটভূমি ও ঘটনার বিবরণ
মামলার অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৩ সালের ১৪ জুন রাতে ভুক্তভোগী শ্যামল বেপারী (৩৮) মুন্সীগঞ্জ থানাধীন পূর্ব রাখি সাকিনস্থ নিজের বাড়িতে একা ঘুমিয়ে ছিলেন। রাত ১টার দিকে আসামিরা ঘরের দরজা খোলার জন্য তাকে ডাক দেন। শ্যামল বেপারী আসামিদের কথা শুনে ঘরের দরজা খুলে দিলে, আসামিরা পূর্ব শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশে তার হাত, দুই পা এবং মাথায় গুলি করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন।
এ সময় গুলির তীব্র শব্দ শুনে প্রতিবেশীরা ঘটনাস্থলে এগিয়ে আসলে, আসামিরা ফাঁকা গুলি এবং ককটেল বিস্ফোরণ করে দ্রুত পালিয়ে যায়। এই মর্মান্তিক ঘটনার পর নিহতের ভাই মো. ইব্রাহিম বেপারী (৩৬) মুন্সিগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়া
মামলাটির তদন্ত করে ২০২৪ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি মুন্সিগঞ্জ সদর থানার এসআই লিপন সরকার ১১ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এরপর সাক্ষ্য গ্রহণ ও বিস্তারিত শুনানি শেষে আদালত আজ মামলাটির চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন। এই রায়ে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি আইনের শাসনের গুরুত্ব ফুটে উঠেছে।
এই ঘটনা মুন্সিগঞ্জ এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা সংক্রান্ত উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আদালতের এই কঠোর রায় সমাজে অপরাধ দমনে একটি শক্তিশালী বার্তা পাঠিয়েছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।
