১৯ বছর পর আদালতের রায়ে জবরদখলকৃত জমি ফেরত পেলেন মালিক মাফুজল
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলা শহরের টিএন্ডটি এলাকায় দীর্ঘ ১৯ বছর ধরে জবরদখলকৃত জমি আদালতের রায়ে ফেরত পেয়েছেন প্রকৃত মালিক মাফুজল। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) বেলা ১১টার দিকে কোর্টের নাজির ও পুলিশের উপস্থিতিতে জমিটি উচ্ছেদ করে তাঁকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মামলার পটভূমি ও আদালতের রায়
২০০৭ সালে কুড়িগ্রাম আদালতে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা দায়ের করেন মাফুজল। সম্প্রতি কুড়িগ্রাম আদালতের সিনিয়র সিভিল সহকারী জজ (রৌমারী) মো. ফিরোজ কবিরের রায়ে জবরদখলকৃত জমি অপসারণপূর্বক প্রকৃত মালিকদের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। রৌমারী মৌজার জেল নং ২১, সাবেক খতিয়ান নং ১০৪০, এসএ খতিয়ান নং ২, সাবেক দাগ নং ৬৫১, এসএ দাগ নং ৬০৭-এর ২২ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ১৫ শতাংশ জমি এই রায়ের আওতায় পড়ে।
উচ্ছেদ প্রক্রিয়া ও পুলিশি তৎপরতা
আদালতের রায় বাস্তবায়নে শনিবার বেলা ১১টার দিকে রৌমারী উপজেলা শহরের টিএন্ডটি এলাকায় জবরদখলকৃত জমিতে অবস্থিত দোকানঘর ও আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) অফিস উচ্ছেদ করা হয়। কুড়িগ্রাম কোর্টের নাজির মো. গোলাম রহমান ও কোর্ট পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) ময়নুল হক উচ্ছেদের পর জমিটি মালিক মাফুজলকে বুঝিয়ে দেন। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে এ সময় পুলিশের একটি দল সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
রৌমারী থানার ওসি কাওসার আলী জানান, আদালত কর্তৃক কমিশনের মাধ্যমে উচ্ছেদ বিষয়ে অবহিত করা হয়েছিল। পরে কোর্টের নাজির ও পুলিশ এসে জবরদখলকৃত জমি উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিককে বুঝিয়ে দেন। এই প্রক্রিয়ায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও তাৎপর্য
এই ঘটনায় স্থানীয়রা আইনের শাসনের জয় হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘ ১৯ বছর পর মালিকের জমি ফেরত পাওয়াকে একটি ঐতিহাসিক ন্যায়বিচার হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। আদালতের এই রায় ভবিষ্যতে অনুরূপ জবরদখল মামলাগুলোর জন্য একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
মালিক মাফুজলের পরিবার ও আইনজীবীরা আদালতের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলেন, ধৈর্য ও আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত ন্যায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই ঘটনা প্রমাণ করে যে, আইনের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের অন্যায় দখলও উচ্ছেদ করা সম্ভব।
